Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

Bhubaneswar:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৫: আপনার চোখের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন

By Dr. Anita Sethi in Eye Care / Ophthalmology

Apr 15 , 2026 | 11 min read

চোখ শুধু সংবেদী অঙ্গের চেয়েও বেশি কিছু। এগুলো আমাদের অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে, চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পেতে এবং আমাদের চারপাশের সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। এর গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও, আমরা প্রায়শই একে অবহেলা করি। সময়ের সাথে সাথে, এই অবহেলার ফলে মায়োপিয়া, গ্লুকোমা বা ছানির মতো চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে, চোখের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে এবং দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করতে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এই ব্লগে, আমরা আলোচনা করব কেন চোখের যত্ন জরুরি, কোন সাধারণ চোখের সমস্যাগুলোর দিকে নজর রাখতে হবে এবং সুস্থ ও সবল দৃষ্টি বজায় রাখার বাস্তবসম্মত উপায়গুলো কী কী। চলুন, এই দিনটির তাৎপর্য বোঝার মাধ্যমে শুরু করা যাক।

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের ইতিহাস ও গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক অন্ধত্ব প্রতিরোধ সংস্থা (IAPB) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক চালুকৃত ‘ভিশন ২০২০: দ্য রাইট টু সাইট’ নামক বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০০০ সালে প্রথম বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালন করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বিশ্বজুড়ে মানুষকে চোখের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহিত করা। তখন থেকে এটি একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যা অক্টোবরের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার পালন করা হয় এবং প্রতি বছর দৃষ্টি পরিচর্যা সম্পর্কিত একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়।

এই দিনটির গুরুত্ব এই কথা মনে করিয়ে দেওয়ার মধ্যে নিহিত যে, ভালো দৃষ্টিশক্তি মানে শুধু পরিষ্কারভাবে দেখতে পারাই নয়। এটি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাধীনতা এবং জীবনের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে। চোখের দুর্বল স্বাস্থ্য সুযোগ সীমিত করতে পারে, উৎপাদনশীলতা কমাতে পারে এবং মানসিক সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সময়মতো চোখের পরীক্ষা, প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক দৃষ্টি সমস্যাকে গুরুতর হওয়া থেকে প্রতিরোধ করা যায়।

চোখের স্বাস্থ্যের জন্য একটি দিন উৎসর্গ করার মাধ্যমে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আমাদের অন্যতম মূল্যবান এই ইন্দ্রিয়টিকে রক্ষা করার গুরুত্ব তুলে ধরে এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস কমাতে ব্যক্তি, সম্প্রদায় ও সরকারকে পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করে।

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৫-এর প্রতিপাদ্য

২০২৫ সালের ৯ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, “আপনার চোখকে ভালোবাসুন” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হবে। এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হলো সকলের জন্য চক্ষুসেবাকে সহজলভ্য, সুলভ এবং সাশ্রয়ী করে তোলা।

এই বছরের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানুষ এবং তাদের গল্প। ‘এভরি স্টোরি কাউন্টস’ উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রচারাভিযান তুলে ধরেছে, কীভাবে দৃষ্টিশক্তি দৈনন্দিন জীবন এবং বৃহত্তর সমাজকে প্রভাবিত করে। ‘গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ’ সরাসরি নীতিনির্ধারকদের কাছে স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করে, যা তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয় উন্নয়নের জন্য চোখের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে। বার্ষিক ফটো প্রতিযোগিতাও ফিরে এসেছে, যা শক্তিশালী ছবির মাধ্যমে মানুষকে মনে করিয়ে দেয় কেন #LoveYourEyes (নিজের চোখকে ভালোবাসুন) গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে সাধারণ চোখের সমস্যা

চোখের সমস্যা একটি ব্যাপক সমস্যা এবং এটি সব বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু সমস্যা বয়সের সাথে সাথে ধীরে ধীরে দেখা দেয়, আবার কিছু সমস্যা জীবনযাত্রার অভ্যাসের সাথে সম্পর্কিত, যেমন দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা বা অপর্যাপ্ত আলো। নিচে বর্তমানে মানুষের সম্মুখীন হওয়া কয়েকটি সাধারণ চোখের সমস্যা উল্লেখ করা হলো:

  • মায়োপিয়া (স্বল্পদৃষ্টি): মায়োপিয়া বিশ্বব্যাপী দ্রুত বর্ধনশীল দৃষ্টি সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা কাছের জিনিস পরিষ্কারভাবে দেখতে পান, কিন্তু দূরের জিনিস ঝাপসা দেখায়। এটি বিশেষ করে শিশু এবং তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যার কারণ হিসেবে প্রায়শই ডিজিটাল ডিভাইসে দীর্ঘ সময় কাটানো এবং বাইরে কম সময় কাটানোকে দায়ী করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা জরুরি, কারণ চিকিৎসা না করালে শিশুদের মধ্যে অ্যাম্বলিওপিয়া বা অলস চোখের সমস্যা হতে পারে এবং সময়ের সাথে সাথে তা আরও খারাপ হতে পারে।
  • হাইপারোপিয়া (দূরদৃষ্টি): এক্ষেত্রে দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু কাছের কাজ যেমন পড়া বা কম্পিউটারে কাজ করা কঠিন হতে পারে। হাইপারোপিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা সবসময় সমস্যাটি বুঝতে পারে না, কিন্তু এর কারণে ঘন ঘন মাথাব্যথা , চোখের উপর চাপ এবং মনোযোগের সমস্যা হতে পারে। রোগ নির্ণয় এবং প্রতিকারের জন্য নিয়মিত চোখের পরীক্ষা অপরিহার্য।
  • অ্যাস্টিগমাটিজম: কর্নিয়া বা লেন্সের আকৃতি অনিয়মিত হলে অ্যাস্টিগমাটিজম হয়, যার ফলে আলো রেটিনায় সঠিকভাবে ফোকাস করতে পারে না। এর ফলে সব দূরত্বেই দৃষ্টি ঝাপসা বা বিকৃত হয়ে যায়। এটি এককভাবে অথবা মায়োপিয়া বা হাইপারোপিয়ার সাথে একত্রে হতে পারে। চশমা, কন্টাক্ট লেন্স বা সংশোধনমূলক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্পষ্ট দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
  • ছানি: ছানি একটি সাধারণ বয়সজনিত সমস্যা, যেখানে চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে যায়। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ঝাপসা দৃষ্টি , আলোর ঝলকানিতে সংবেদনশীলতা এবং রাতে দেখতে অসুবিধা। যদিও এটি ধীরে ধীরে বাড়ে, ছানি দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। সৌভাগ্যবশত, ছানির অস্ত্রোপচার স্পষ্ট দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকর।
  • গ্লুকোমা: গ্লুকোমা হলো এমন একগুচ্ছ রোগ যা সাধারণত চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে অপটিক স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি ধীরে ধীরে বিকশিত হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায়শই এর কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। চিকিৎসা না করালে এর ফলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে পারে। গ্লুকোমা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা এবং গুরুতর ক্ষতি প্রতিরোধ করার সর্বোত্তম উপায় হলো নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করানো।
  • শুষ্ক চোখ সিন্ড্রোম: চোখ যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে অশ্রু তৈরি করে না অথবা অশ্রু খুব দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়, তখন চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। এই অবস্থার কারণে পড়ার সময়, স্ক্রিন ব্যবহারের সময় বা শুষ্ক বাতাসের সংস্পর্শে আসার সময় জ্বালা, অস্বস্তি এবং অস্বস্তি হতে পারে। মজার ব্যাপার হলো, শুষ্ক চোখের কারণে চোখ থেকে অতিরিক্ত পানিও ঝরতে পারে। চোখের উপরিভাগ খুব বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে সেখানে জ্বালাভাব সৃষ্টি হয়, যা সুরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া হিসেবে অশ্রুগ্রন্থিগুলোকে প্রচুর পরিমাণে পাতলা অশ্রু নিঃসরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। তবে, এই অশ্রু নিম্নমানের হয় এবং সঠিক পিচ্ছিলকারক হিসেবে কাজ করে না, ফলে প্রায়শই তা উপচে পড়ে এবং চোখ থেকে পানি পড়ার মতো অনুভূতি তৈরি করে।
  • বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (এএমডি): এএমডি রেটিনার কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তির জন্য দায়ী অংশ ম্যাকুলাকে প্রভাবিত করে। এর ফলে পড়া, মুখ চেনা এবং গাড়ি চালানোর মতো কাজগুলো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে। বয়স, ধূমপান এবং পারিবারিক ইতিহাসের সাথে এএমডি-র ঝুঁকি বাড়ে। যদিও এটি সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য নয়, তবে চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন এর অগ্রগতিকে ধীর করতে সাহায্য করতে পারে।

আপনার চোখ পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হতে পারে এমন লক্ষণসমূহ

দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক মনে হলেও নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করানো জরুরি। চোখে প্রায়শই বিভিন্ন সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায়, যা প্রথমে সহজে বোঝা যায় না। নিচে এমন কিছু সাধারণ লক্ষণ দেওয়া হলো, যা দেখে বোঝা যায় যে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার সময় হয়েছে:

  • ঝাপসা বা বিকৃত দৃষ্টি: পড়তে, মুখ চিনতে বা দূরের বস্তু দেখতে অসুবিধা হলে তা মায়োপিয়া, হাইপারোপিয়া বা অ্যাস্টিগমাটিজমের মতো প্রতিসরণজনিত ত্রুটির লক্ষণ হতে পারে। যদি এই ঝাপসা ভাব হঠাৎ করে দেখা দেয়, তবে তা চোখের আরও গুরুতর কোনো সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।
  • ঘন ঘন মাথাব্যথা: বই পড়া, স্ক্রিন ব্যবহার করা বা সূক্ষ্ম কাজ করার পর যে মাথাব্যথা হয়, তা চোখের উপর চাপ, দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি বা মনোযোগ দেওয়ার সমস্যার কারণে হতে পারে।
  • দ্বৈত দৃষ্টি: একটি বস্তুর দুটি প্রতিবিম্ব দেখা চোখের পেশী, কর্নিয়া বা লেন্সের সমস্যার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে এবং কখনও কখনও এটি একটি অন্তর্নিহিত স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
  • চোখের ব্যথা বা অস্বস্তি: চোখের চারপাশে একটানা ব্যথা, তীব্র ব্যথা বা চাপ কখনোই স্বাভাবিক নয় এবং গ্লুকোমা, সংক্রমণ বা আঘাত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।
  • আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা (ফটোফোবিয়া): উজ্জ্বল আলো, ঝলকানি বা সূর্যের আলো সহ্য করতে সমস্যা হওয়া কর্নিয়ার সমস্যা, সংক্রমণ বা চোখের ক্লান্তির লক্ষণ হতে পারে।
  • অতিরিক্ত অশ্রুক্ষরণ বা শুষ্কতা: চোখ থেকে অতিরিক্ত জল পড়া চোখের অস্বস্তি, শুষ্ক চোখ সিন্ড্রোম বা অশ্রু নালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়া হতে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক চোখের কারণে জ্বালা, চুলকানি বা খসখসে অনুভূতি হতে পারে।
  • রাতে কম দেখা: কম আলোতে পরিষ্কারভাবে দেখতে অসুবিধা, বিশেষ করে রাতে গাড়ি চালানোর সময়, ছানি, ভিটামিন এ-র অভাব বা রেটিনার সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
  • লালচে ভাব বা ফোলাভাব: চোখে ক্রমাগত লালচে ভাব, ফোলাভাব বা রক্তবর্ণ দেখা দিলে তা সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা চোখের অন্য কোনো সমস্যার কারণে হতে পারে, যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসার প্রয়োজন।
  • রঙ উপলব্ধিতে পরিবর্তন: যদি রঙগুলো ফ্যাকাশে, অনুজ্জ্বল বা আগের চেয়ে ভিন্ন দেখায়, তবে এটি ছানি, অপটিক স্নায়ুর সমস্যা বা রেটিনার রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
  • আলোর ঝলকানি বা ভাসমান বস্তু: দৃষ্টিতে হঠাৎ উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি, কালো দাগ বা ছায়ার মতো ভাসমান বস্তু দেখা রেটিনাল ডিটাচমেন্টের লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা

ভ্রান্ত ধারণা ১: চশমা পরলে দৃষ্টিশক্তি খারাপ হয়ে যায়।

চশমা কেবল চোখে আলো প্রবেশের পদ্ধতিকে সংশোধন করে, যার ফলে দৃষ্টি পরিষ্কার হয়। এটি দৃষ্টিশক্তিকে দুর্বল বা শক্তিশালী করে না। বয়স বা বংশগতির মতো প্রাকৃতিক কারণে সময়ের সাথে সাথে দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু এর জন্য চশমা দায়ী নয়। প্রয়োজনের সময় চশমা এড়িয়ে চললে তা জীবনকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে, যার ফলে চোখে চাপ এবং মাথাব্যথা হতে পারে।

ভ্রান্ত ধারণা ২: নিখুঁত দৃষ্টিশক্তির জন্য শুধু গাজর খাওয়াই যথেষ্ট।

গাজরে ভিটামিন এ থাকে, যা চোখের স্বাস্থ্য এবং রাতের দৃষ্টিশক্তির জন্য অপরিহার্য। তবে, অতিরিক্ত পরিমাণে গাজর খেলেই যে নিখুঁত দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত হয়, তা নয়। ভালো দৃষ্টিশক্তি একাধিক পুষ্টি উপাদানের উপর নির্ভর করে, যেমন মাছ থেকে প্রাপ্ত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, শাকসবজি থেকে প্রাপ্ত লুটেইন এবং ফল থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন সি। চোখ সুস্থ রাখার জন্য শুধু গাজরই নয়, একটি সুষম খাদ্যতালিকাও জরুরি।

ভ্রান্ত ধারণা ৩: শুধু বয়স্ক মানুষদেরই চোখের সমস্যা হয়

যদিও ছানি এবং ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো বয়স-সম্পর্কিত সমস্যাগুলো বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, দৃষ্টির সমস্যা যেকোনো বয়সেই দেখা দিতে পারে। শিশুদের মায়োপিয়ার (নিকটদৃষ্টি) মতো প্রতিসরণজনিত ত্রুটি থাকতে পারে, কিশোর-কিশোরীদের ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে চোখে চাপ পড়তে পারে এবং প্রাপ্তবয়স্করা শুষ্ক চোখ বা গ্লুকোমার মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে চোখের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।

ভ্রান্ত ধারণা ৪: কন্টাক্ট লেন্স চোখের পেছনে হারিয়ে যেতে পারে

চোখের গঠনগত কারণে এমনটা হতে পারে না। কনজাংটিভা নামক একটি পাতলা পর্দা চোখের সাদা অংশকে আবৃত করে রাখে এবং চোখের পাতার সাথে সংযুক্ত থাকে, যা অক্ষিগোলকের পিছনে কোনো কিছুর চলাচলে বাধা দেয়। কোনো লেন্স চোখের পাতার নিচে আটকে যেতে পারে, কিন্তু তা নিরাপদে বের করে আনা যায়। কন্টাক্ট লেন্সের সঠিক যত্ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সেগুলোকে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ রাখে।

ভ্রান্ত ধারণা ৫: চোখের ব্যায়াম দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ঠিক করতে পারে।

চোখের ব্যায়াম চোখের উপর চাপ কমাতে, সমন্বয় উন্নত করতে এবং চোখকে আরও আরামদায়ক করতে পারে, কিন্তু এগুলি কর্নিয়ার আকৃতি বা অক্ষিগোলকের দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করতে পারে না, যা মায়োপিয়া বা হাইপারোপিয়ার মতো প্রতিসরণজনিত ত্রুটির প্রধান কারণ। এই ধরনের অবস্থা সংশোধনের জন্য সাধারণত চশমা, কন্টাক্ট লেন্স বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।

ভ্রান্ত ধারণা ৬: সানগ্লাস শুধু রৌদ্রোজ্জ্বল দিনের জন্যই।

সানগ্লাস অপরিহার্য কারণ এটি ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধ করে, যা ছানি, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং এমনকি চোখে টিউমারের মতো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। মেঘলা বা কুয়াশাচ্ছন্ন দিনেও অতিবেগুনি রশ্মি উপস্থিত থাকে, তাই বাইরে থাকাকালীন সর্বদা সঠিক অতিবেগুনি রশ্মি সুরক্ষাযুক্ত সানগ্লাস পরা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার চোখের সঠিক যত্ন নেওয়ার কিছু পরামর্শ

সাধারণ জীবনযাত্রার অভ্যাস চোখকে সুস্থ রাখতে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা প্রতিরোধে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। চোখের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নিচে কিছু কার্যকরী পরামর্শ দেওয়া হলো যা প্রতিদিন অনুসরণ করা যেতে পারে।

  • ২০-২০-২০ নিয়মটি অনুসরণ করুন: বর্তমানে চোখের উপর চাপ পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা। চোখকে নিয়মিত বিশ্রাম দিতে ২০-২০-২০ নিয়মটি চেষ্টা করুন: প্রতি ২০ মিনিট পর পর, ২০ ফুট দূরে থাকা কোনো কিছুর দিকে ২০ সেকেন্ডের জন্য তাকান। এই ছোট বিরতি চোখের পেশীগুলোকে শিথিল করতে, মাথাব্যথা প্রতিরোধ করতে এবং ডিজিটাল আই স্ট্রেইন কমাতে সাহায্য করে।
  • চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এমন খাবার খান: চোখ সুস্থ রাখতে একটি সুষম খাদ্যতালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন এ (রাতের বেলা দেখার জন্য), ভিটামিন সি এবং ই (কোষের ক্ষতি থেকে সুরক্ষার জন্য), ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (চোখের জল উৎপাদনের জন্য) এবং জিঙ্ক (ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের ঝুঁকি কমানোর জন্য)-এর মতো পুষ্টি উপাদানগুলো বিশেষভাবে মূল্যবান। শাকসবজি, গাজর, লেবু জাতীয় ফল, ডিম, মাছ এবং বাদাম আপনার দৈনন্দিন খাবারে যোগ করার জন্য চমৎকার বিকল্প।
  • চোখকে আর্দ্র রাখুন: শুষ্ক চোখে চুলকানি, খসখসে ভাব বা অস্বস্তি হতে পারে, বিশেষ করে শুষ্ক আবহাওয়ায় বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে। সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে। যারা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটান, তাদের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী লুব্রিকেটিং আই ড্রপও স্বস্তি দিতে পারে।
  • সূর্য থেকে আপনার চোখকে রক্ষা করুন: অতিবেগুনী (UV) রশ্মির দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শে চোখের বার্ধক্য ত্বরান্বিত হতে পারে এবং ছানি ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাইরে থাকাকালীন ১০০% UVA এবং UVB রশ্মি প্রতিরোধকারী সানগ্লাস পরা আবশ্যক। চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদান করে, বিশেষ করে দিনের তীব্র রোদের সময়।
  • স্ক্রিনের সঠিক ব্যবহারবিধি মেনে চলুন: অনেকেই স্ক্রিনের খুব কাছে বসেন বা কম আলোতে কাজ করেন, যা দৃষ্টিশক্তির সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। মনিটরকে হাতের নাগালের দূরত্বে রাখা, চারপাশের পরিবেশের সাথে মিলিয়ে উজ্জ্বলতা ঠিক করা এবং অ্যান্টি-গ্লেয়ার স্ক্রিন ব্যবহার করলে চোখের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ প্রতিরোধ করা যায়। যারা কাজ বা পড়াশোনার জন্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করেন, তাদের জন্য ব্লু লাইট ফিল্টার বা চশমাও সহায়ক হতে পারে।
  • পর্যাপ্ত ঘুম: চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের অভাবে চোখ লাল, ফোলা বা ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে এবং এমনকি কাঁপুনিও হতে পারে। ভালো মানের ঘুম চোখকে দৈনন্দিন ক্লান্তি থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করে। একটি নিয়মিত ঘুমের রুটিন মেনে চললে তা কেবল সার্বিক স্বাস্থ্যেরই উন্নতি করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তির জন্যও উপকারী।
  • চোখ ঘষা থেকে বিরত থাকুন: অস্বস্তি দূর করার জন্য চোখ ঘষা একটি দ্রুত সমাধান বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এটি উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। এর মাধ্যমে ময়লা ও জীবাণু স্থানান্তরিত হয়, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত ঘষার ফলে কর্নিয়ারও ক্ষতি হতে পারে। এর পরিবর্তে, পরিষ্কার জল দিয়ে আলতো করে চোখ ধুয়ে ফেলুন অথবা অস্বস্তি কমাতে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ড্রপ ব্যবহার করুন।
  • নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করান: গ্লুকোমা এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সহ চোখের অনেক রোগ কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে। নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা শনাক্ত করতে সাহায্য করে, যখন চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ১-২ বছরে একবার সম্পূর্ণ চক্ষু পরীক্ষা করানো উচিত, অথবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আরও ঘন ঘন করানো যেতে পারে।

এই বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে আপনার ভূমিকা পালন করুন।

দৃষ্টি ও চোখের যত্নের গুরুত্ব তুলে ধরতে মানুষ যখন সচেতন প্রচেষ্টা চালায়, তখন বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালন করা সহজ অথচ অর্থবহ হতে পারে। দিনটি পালনের কয়েকটি উপায় নিচে দেওয়া হলো:

  • চক্ষু পরীক্ষা করান: নিজের চক্ষু পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ করে এবং পরিবারের সদস্যদেরও তা করতে উৎসাহিত করে দিনটি স্মরণীয় করে রাখুন। শুধুমাত্র এই কাজটিই রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধের উদ্দেশ্যকে সমর্থন করে।
  • সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণ করুন: প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও চোখের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আয়োজিত স্থানীয় অনুষ্ঠান, পদযাত্রা বা প্রচারাভিযানে যোগ দিন বা সমর্থন করুন।
  • অন্যদের সচেতন করুন: চোখের যত্ন কেন জরুরি, তা অন্যদের মনে করিয়ে দিতে স্কুল, কর্মক্ষেত্র বা সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করুন। একটি ছোট বার্তাও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
  • চক্ষু স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে সহায়তা করুন: সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, অস্ত্রোপচার বা চশমা প্রদানকারী সংস্থাগুলিতে অনুদান দিন বা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করুন।
  • থিমের রঙ বা প্রতীক পরিধান করুন: অনেক সচেতনতা দিবসে সমর্থনের দৃশ্যমান প্রদর্শনকে উৎসাহিত করা হয়। থিমযুক্ত রিবন, রঙ বা ব্যাজ পরিধান করলে বার্তাটি ছড়িয়ে পড়ে এবং সংহতি প্রকাশ পায়।
  • এ বিষয়ে আলোচনা করুন: বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথে দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব এবং নিয়মিত চোখের যত্ন নিয়ে আলাপ শুরু করার সুযোগ হিসেবে দিনটিকে কাজে লাগান।

শেষ কথা

পড়া ও কাজ করা থেকে শুরু করে প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানো পর্যন্ত, ভালো দৃষ্টিশক্তি জীবনকে সহজ করে তোলে। আপনি যদি চোখের শুষ্কতা, ঝাপসা দৃষ্টি বা উদ্বেগজনক কোনো পরিবর্তনে ভুগে থাকেন, তবে দেরি না করাই ভালো। ম্যাক্স হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা আপনার চোখ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসার জন্য নির্দেশনা দিতে প্রস্তুত, যাতে আপনার চোখ আগামী বছরগুলোতেও সুস্থ থাকে। আজই ম্যাক্স হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞদের সাথে আপনার পরামর্শের জন্য বুক করুন।