Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

গর্ভাবস্থায় কুঁচকির ব্যথা কী: কারণ ও উপশমের উপায়

By Dr. Mukul Bhargava in Cardiac Sciences , Cardiology

Apr 15 , 2026

আপনার গর্ভাবস্থা যত এগোতে থাকে, আপনার শরীরে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য এবং কখনও কখনও অস্বস্তিকর পরিবর্তন আসে। এর মধ্যে একটি সাধারণ লক্ষণ হলো কুঁচকিতে একটানা বা তীব্র ব্যথা। এই অস্বস্তি হালকা ব্যথা থেকে শুরু করে ছুরির মতো তীব্র ব্যথা পর্যন্ত হতে পারে এবং এর ফলে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে আপনার শরীরের ভেতরে আসলে কী হচ্ছে। এটি একটি সাধারণ সমস্যা, কিন্তু সঠিক জ্ঞান এবং গর্ভাবস্থাকালীন পরামর্শের মাধ্যমে এর সমাধান করা সম্ভব।

গর্ভাবস্থায় আমার কুঁচকিতে ব্যথা হচ্ছে কেন?

গর্ভাবস্থায় কুঁচকিতে ব্যথা একটি খুব সাধারণ উপসর্গ, বিশেষ করে শেষের দিকে। আপনার ক্রমবর্ধমান শিশুর জন্য জায়গা করে দিতে শরীরে যে উল্লেখযোগ্য শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, তার ফলেই এই ব্যথা হয়।

গোল লিগামেন্টের ব্যথা

গর্ভাবস্থায় কুঁচকিতে ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন। রাউন্ড লিগামেন্ট হলো দুটি লিগামেন্ট যা জরায়ুকে অবলম্বন দেয় এবং এটিকে কুঁচকির সামনের অংশের সাথে সংযুক্ত করে। আপনার জরায়ু বড় হওয়ার সাথে সাথে এই লিগামেন্টগুলো প্রসারিত ও পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে তীব্র, ছুরির মতো ব্যথা হতে পারে, বিশেষ করে কাশি, হাঁচি বা দ্রুত উঠে দাঁড়ানোর মতো হঠাৎ নড়াচড়ার সময়। এই ব্যথা সাধারণত অল্পস্থায়ী হয় এবং এটি একপাশে বা উভয় পাশে অনুভূত হতে পারে।

সিমফাইসিস পিউবিস ডিসফাংশন (এসপিডি)

সিমফাইসিস পিউবিস ডিসফাংশন (এসপিডি), যা পেলভিক গার্ডল পেইন (পিজিপি) নামেও পরিচিত, গর্ভাবস্থায় কুঁচকিতে অস্বস্তির একটি সাধারণ কারণ। পিউবিক সিমফাইসিস হলো সেই অস্থিসন্ধি যা শ্রোণীচক্রের দুই পাশকে সংযুক্ত করে। গর্ভাবস্থা যত অগ্রসর হয়, রিলাক্সিন নামক হরমোন সহায়ক লিগামেন্টগুলোকে শিথিল করে দেয়, ফলে এই অস্থিসন্ধিটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নড়াচড়া করতে পারে। এই বর্ধিত নড়াচড়ার কারণে পিউবিক অঞ্চলে অস্থিরতা এবং ব্যথা হতে পারে, যা কুঁচকি, ঊরুর ভেতরের অংশ এবং কোমর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ক্রমবর্ধমান জরায়ু এবং শিশু

আপনার জরায়ু প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে এবং শিশুর বৃদ্ধির ফলে, এটি আপনার শ্রোণী এবং কুঁচকির স্নায়ু ও লিগামেন্টের উপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে এক ধরনের ভোঁতা, টনটনে ব্যথা হতে পারে, যা প্রায়শই দিনের শেষে বা শারীরিক পরিশ্রমের পরে আরও বেড়ে যায়। শিশুর নড়াচড়াও এই ব্যথা বাড়াতে পারে, কারণ তার ছোট্ট পা বা কনুই শ্রোণীতে অস্বস্তিকরভাবে আটকে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: গর্ভাবস্থার তিনটি পর্যায়: একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

নিরাপদ এবং কার্যকর ত্রাণ কৌশল

গর্ভাবস্থায় কুঁচকির ব্যথা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও, তা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এই পরামর্শগুলো সহজ এবং আপনার দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

মৃদু স্ট্রেচ এবং ব্যায়াম

  • পেলভিক টিল্টস: আপনার শ্রোণীকে আলতোভাবে সামনে-পিছনে দোলালে তা আপনার কোরকে শক্তিশালী করতে এবং লিগামেন্টের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • প্রসবপূর্ব যোগব্যায়াম: ক্যাট-কাউ এবং চাইল্ড'স পোজের মতো আসনগুলি আপনার পিঠ, কোমর এবং কুঁচকির টান কমাতে ও আলতোভাবে প্রসারিত করতে সাহায্য করতে পারে।
  • সাঁতার: পানি প্লবতা প্রদান করে, যা আপনার অস্থিসন্ধি ও পেশীগুলোর ওপর থেকে চাপ কমিয়ে দেয়, ফলে সাঁতার একটি চমৎকার স্বল্প-প্রভাবী ব্যায়াম।

সঠিক সাপোর্ট পরিধান করুন

  • ম্যাটারনিটি সাপোর্ট বেল্ট: একটি সঠিকভাবে ফিট হওয়া ম্যাটারনিটি সাপোর্ট বেল্ট আপনার জরায়ুর ওজন বহন করতে সাহায্য করে, যা আপনার লিগামেন্টের উপর চাপ কমায় এবং আপনার পেলভিক অঞ্চলকে সাপোর্ট প্রদান করে।
  • সহায়ক জুতো: সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখতে এবং অস্থিসন্ধির উপর চাপ কমাতে আরামদায়ক ও সহায়ক জুতো পরুন।

গরম ও ঠান্ডা থেরাপি

  • গরম জলে স্নান বা শাওয়ার: গরম জলে স্নান করলে তা পেশীর টান কমাতে এবং ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।
  • হিট প্যাক: মাংসপেশীর ব্যথা উপশম করতে ব্যথাপূর্ণ স্থানে অল্প সময়ের জন্য গরম সেঁক বা হিট প্যাক প্রয়োগ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ: ১ সপ্তাহ থেকে ১ মাস

আপনার অঙ্গভঙ্গি ও নড়াচড়া সামঞ্জস্য করুন

  • হঠাৎ নড়াচড়া পরিহার করুন: বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে উঠুন। হঠাৎ করে শরীর মোচড়ানো বা ঘোরানো থেকে বিরত থাকুন।
  • বালিশ ব্যবহার করুন: ঘুমানোর সময়, আপনার মেরুদণ্ড এবং নিতম্বকে সঠিক অবস্থানে রাখতে হাঁটুর মাঝে একটি এবং পেটের নিচে আরেকটি বালিশ রাখুন। রক্ত সঞ্চালন উন্নত করার জন্য সাধারণত বাম দিকে কাত হয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

কখন আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন

গর্ভাবস্থায় কুঁচকির ব্যথা সাধারণত নিরীহ হলেও, কিছু বিরল ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুতর কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, তা জানা জরুরি।

  • তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: যদি আপনার ব্যথা তীব্র ও অবিরাম হয় এবং ঘরোয়া চিকিৎসায় উপশম না হয়, তবে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
  • জ্বরের সাথে ব্যথা, কাঁপুনি বা জ্বালাপোড়া: এটি কোনো সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, যেমন মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই), যা গর্ভাবস্থায় একটি সাধারণ জটিলতা।
  • প্রসবের লক্ষণ: গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকের শেষের দিকে কুঁচকিতে তীব্র ব্যথা, বিশেষ করে যদি তা নিয়মিত হয়, তবে তা অকাল প্রসবের লক্ষণ হতে পারে।

আপনার কুঁচকির ব্যথা তীব্র হলে এবং এর সাথে এই অন্যান্য উপসর্গগুলোর কোনোটি থাকলে, আপনার ডাক্তারকে ফোন করা উচিত বা অবিলম্বে চিকিৎসা সেবা নেওয়া উচিত।

উপসংহার

গর্ভাবস্থায় কুঁচকিতে ব্যথা হওয়াটা খুবই সাধারণ একটি বিষয়, যা অনেক মহিলাই অনুভব করেন। এটি একটি লক্ষণ যে আপনার শরীর প্রসারিত হচ্ছে এবং আপনার বেড়ে ওঠা শিশুর জন্য জায়গা তৈরি করছে। অঙ্গভঙ্গি ঠিক করা, হালকা স্ট্রেচিং করা এবং সঠিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার মতো সক্রিয় পদক্ষেপের মাধ্যমে আপনি এই অস্বস্তি কার্যকরভাবে সামলাতে পারেন। মনে রাখবেন, এটি একটি সাময়িক উপসর্গ এবং পৃথিবীতে একটি নতুন জীবন আনার অবিশ্বাস্য প্রক্রিয়ার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। আপনার সহজাত প্রবৃত্তির উপর বিশ্বাস রাখুন এবং আপনার ও আপনার শিশুর জন্য একটি সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে যেকোনো নতুন বা উদ্বেগজনক উপসর্গ সম্পর্কে সর্বদা আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

গর্ভাবস্থায় কুঁচকিতে ব্যথা কি একটি স্বাভাবিক লক্ষণ?

হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় কুঁচকিতে ব্যথা একটি খুবই সাধারণ এবং স্বাভাবিক উপসর্গ, বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। আপনার শরীরে যে শারীরিক পরিবর্তনগুলো ঘটে, তার কারণেই এটি হয়ে থাকে।

সাপোর্ট বেল্ট কি কুঁচকির ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে?

হ্যাঁ, একটি ম্যাটারনিটি সাপোর্ট বেল্ট আপনার লিগামেন্টের উপর চাপ কমাতে এবং পেলভিক অঞ্চলকে সাপোর্ট দিতে সাহায্য করে, যা কুঁচকির ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া কি নিরাপদ?

গর্ভাবস্থায় যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে সর্বদা আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

কুঁচকিতে ব্যথা থাকা সত্ত্বেও কি আমি ব্যায়াম করতে পারি?

হ্যাঁ, হালকা ব্যায়াম নিরাপদ এবং এমনকি উপকারীও হতে পারে। তবে, আপনার উচ্চ-তীব্রতার কার্যকলাপ বা এমন কোনো ব্যায়াম এড়িয়ে চলা উচিত যা আপনার ব্যথা বাড়িয়ে তোলে। নিজের শরীরের কথা শুনুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার রুটিনে পরিবর্তন আনুন।

আমার ডান দিকে ব্যথাটা বেশি কেন?

ডান দিকে ব্যথাটা বেশি তীব্র হতে পারে, কারণ বাড়তে থাকা জরায়ু প্রায়শই সেই দিকে সরে যায়।

ম্যাসাজ করানো কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, একজন সনদপ্রাপ্ত থেরাপিস্টের কাছ থেকে নেওয়া প্রসবপূর্ব ম্যাসাজ আপনার কোমর ও কুঁচকির পেশীর টান কমানোর একটি নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হতে পারে, যা ব্যথার কারণ হয়ে থাকে।