Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

Bhubaneswar:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

গর্ভাবস্থায় রেট্রোভার্টেড ইউটেরাস: লক্ষণ, কারণ ও যত্ন

By Dr. Kamna Nagpal in Infertility & IVF , Obstetrics And Gynaecology

Apr 15 , 2026

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় আপনি হয়তো আপনার ডাক্তারকে রেট্রোভার্টেড ইউটেরাস বা পশ্চাৎমুখী জরায়ুর কথা উল্লেখ করতে শুনেছেন। এই ডাক্তারি পরিভাষাটি বেশ উদ্বেগজনক মনে হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি গর্ভধারণের চেষ্টা করে থাকেন বা ইতোমধ্যেই গর্ভধারণ করে থাকেন। এই অজানা ভয়ের কারণে আপনার গর্ভাবস্থা এবং শিশুর স্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব নিয়ে অনেক প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এটা জেনে রাখা জরুরি যে, রেট্রোভার্টেড ইউটেরাস একটি সাধারণ শারীরিক গঠনগত ভিন্নতা এবং এটি খুব কমই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রেট্রোভার্টেড ইউটেরাস বলতে কী বোঝায়?

রেট্রোভার্টেড ইউটেরাস হলো এমন একটি জরায়ু যা পেটের দিকে সামনের দিকে থাকার সাধারণ অবস্থানের পরিবর্তে মেরুদণ্ডের দিকে পেছনের দিকে ঝুঁকে থাকে। এই শারীরবৃত্তীয় ভিন্নতা প্রায় প্রতি ৫ জন মহিলার মধ্যে ১ জনকে প্রভাবিত করে এবং এটি টিল্টেড ইউটেরাস, রেট্রোফ্লেক্সড ইউটেরাস বা টিপড ইউটেরাস নামেও পরিচিত। এটি কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা গর্ভাবস্থার জটিলতা নয়, বরং এটি শারীরস্থানের একটি স্বাভাবিক ভিন্নতা, অনেকটা মানুষের উচ্চতা বা চোখের রঙের মতোই।

পশ্চাৎমুখী জরায়ু কি কোনো সমস্যা?

বেশিরভাগ মহিলাদের ক্ষেত্রে, পশ্চাৎমুখী জরায়ু উর্বরতা বা গর্ভাবস্থায় কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। সময়ের সাথে সাথে জরায়ুর অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তিত হতে পারে এবং গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে এটি প্রায় সবসময়ই নিজে থেকে ঠিক হয়ে যায়। ক্রমবর্ধমান জরায়ুর ওজন এবং রাউন্ড লিগামেন্টের সমর্থনের কারণে গর্ভাবস্থার প্রায় ১২তম সপ্তাহের মধ্যে এটি হঠাৎ করে সামনের দিকে মুখ করা অবস্থানে চলে আসে।

গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে লক্ষণ এবং সম্ভাব্য উদ্বেগ

যদিও পশ্চাৎমুখী জরায়ু সাধারণত কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না, তবে এর অবস্থানের কারণে গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু স্বতন্ত্র, যদিও সাধারণত সামান্য, উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই উপসর্গগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা সহায়ক, যাতে আপনি সেগুলোকে আরও গুরুতর সমস্যা থেকে আলাদা করতে পারেন।

পিঠের ব্যথা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে, বাড়তে থাকা জরায়ু মলদ্বার এবং কোমরের নিচের অংশে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে পিঠের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এগুলো গর্ভাবস্থার সাধারণ লক্ষণ, কিন্তু আপনার জরায়ু যদি পশ্চাৎমুখী (রেট্রোভার্টেড) হয়, তবে এই লক্ষণগুলো কিছুটা বেশি প্রকট হতে পারে।

"আবদ্ধ" জরায়ু (একটি বিরল জটিলতা)

খুবই বিরল ক্ষেত্রে, জরায়ু 'আটকে' যেতে পারে। এটি তখন ঘটে যখন জরায়ু সামনের দিকে 'বেরিয়ে' না এসে মেরুদণ্ডের শেষ প্রান্তের (স্যাক্রাল প্রোমন্টরি) নিচে আটকে যায়। এটি গর্ভাবস্থার একটি অত্যন্ত বিরল জটিলতা, যা পশ্চাৎমুখী জরায়ুযুক্ত ১%-এরও কম নারীকে প্রভাবিত করে।

যে লক্ষণগুলো খেয়াল রাখতে হবে:

  • তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী শ্রোণী ব্যথা
  • প্রস্রাব করতে না পারা বা মূত্রাশয় খালি করতে অসুবিধা
  • মলত্যাগ করতে অক্ষমতা

করণীয়: যদি আপনি এই উপসর্গগুলো অনুভব করেন, তাহলে অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে এটি সহজেই নির্ণয় করা যায় এবং ডাক্তার হাত দিয়ে জরায়ুটিকে সরিয়ে দিতে পারেন অথবা, বিরল ক্ষেত্রে, এটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য একটি অস্ত্রোপচার করতে পারেন।

আরও পড়ুন: গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ: ১ সপ্তাহ থেকে ১ মাস

রেট্রোভার্টেড জরায়ু নিয়ে গর্ভাবস্থার যত্ন

রেট্রোভার্টেড ইউটেরাস নির্ণয় আপনার গর্ভাবস্থার পরিচর্যা পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনবে না, তবে এটি আপনার কিছু নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে সে সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

আল্ট্রাসাউন্ড এবং স্ক্যান

গর্ভাবস্থার প্রথম সপ্তাহগুলিতে, আপনার শিশুর একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়ার জন্য ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসাউন্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি একটি প্রচলিত পদ্ধতি, কারণ রেট্রোভার্টেড জরায়ুর কারণে সাধারণ অ্যাবডোমিনাল আলট্রাসাউন্ডে শিশুকে দেখা কঠিন হতে পারে। এতে চিন্তার কিছু নেই এবং এটি কেবল আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে সর্বোত্তম সম্ভাব্য দৃশ্য পেতে সাহায্য করার একটি উপায়।

"ফান্ডাল উচ্চতা" পরিমাপ

প্রায় ১২ সপ্তাহের কাছাকাছি সময়ে, আপনার ডাক্তার আপনার ফান্ডাল হাইট (পিউবিক বোন থেকে জরায়ুর উপরের অংশ পর্যন্ত দূরত্ব) মাপা শুরু করবেন। যদি আপনার জরায়ু তখনও রেট্রোভার্টেড থাকে, তবে পরিমাপটি সঠিক নাও হতে পারে। সাধারণত আরও সঠিক পরিমাপের জন্য ১৪ বা ১৫ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ ততদিনে জরায়ুটি সরে আসার জন্য যথেষ্ট সময় পায়।

প্রসব ও ডেলিভারিতে পশ্চাৎমুখী জরায়ুর ভূমিকা

পশ্চাৎমুখী জরায়ুর প্রসব ও ডেলিভারির উপর কোনো প্রভাব নেই। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে পৌঁছানোর আগেই জরায়ু সঠিক অবস্থানে চলে আসে। আপনার যোনিপথে প্রসব হবে নাকি সি-সেকশন হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় আপনার জরায়ুর অবস্থান কোনো নির্ণায়ক বিষয় নয়।

এই অবস্থার জন্য গর্ভাবস্থায় কোনো বিশেষ পরামর্শের প্রয়োজন আছে কি?

না, পশ্চাৎমুখী জরায়ুর ক্ষেত্রে একটি সুস্থ গর্ভাবস্থার জন্য সাধারণ সুপারিশগুলোর বাইরে কোনো বিশেষ পরামর্শের প্রয়োজন হয় না। এর জন্য সর্বোত্তম প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা হলো আপনার ডাক্তারের সমস্ত পরামর্শ মেনে চলা, গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং সক্রিয় থাকা।

আরও পড়ুন: গর্ভাবস্থার তিনটি পর্যায়: একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

উপসংহার

পশ্চাৎমুখী জরায়ু একটি স্বাভাবিক শারীরিক গঠনগত ভিন্নতা, এটি গর্ভাবস্থার কোনো জটিলতা নয়। যদিও গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে এটি কিছু সামান্য, অস্থায়ী উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে, তবে এটি প্রায় সবসময়ই কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজে থেকে ঠিক হয়ে যায়। অবগত থেকে, আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ রেখে এবং আপনার শরীরের মানিয়ে নেওয়ার অবিশ্বাস্য ক্ষমতার উপর আস্থা রেখে, আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনার গর্ভাবস্থার যাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন। নিশ্চিন্ত থাকুন যে, পৃথিবীতে একটি নতুন জীবন আনার সুন্দর ও গভীর প্রক্রিয়ায় এই শারীরিক অস্বাভাবিকতাটি একটি সামান্য বিষয় মাত্র।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

পশ্চাৎমুখী জরায়ু কি বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে?

না, পশ্চাৎমুখী জরায়ু বন্ধ্যাত্বের কারণ নয়। এর অবস্থান আপনার গর্ভধারণের ক্ষমতার উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

পশ্চাৎমুখী জরায়ুর কারণে কি গর্ভপাত হতে পারে?

না, পশ্চাৎমুখী জরায়ু গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায় না। গর্ভপাত সাধারণত জিনগত সমস্যা বা গর্ভাবস্থার অন্যান্য জটিলতার কারণে হয়ে থাকে, জরায়ুর অবস্থানের কারণে নয়।

জরায়ু কখন সামনের দিকে সরে আসে?

গর্ভাবস্থার ১০ম থেকে ১৪তম সপ্তাহের মধ্যে জরায়ু সাধারণত নিজে থেকেই সামনের দিকে নেমে আসে। কারো কারো ক্ষেত্রে এটি আগে বা পরেও ঘটতে পারে।

পশ্চাৎমুখী জরায়ুর কারণে কি গর্ভাবস্থা পরীক্ষার ফলাফল দেরিতে আসতে পারে?

না, আপনার জরায়ুর অবস্থানের সাথে গর্ভাবস্থা পরীক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই। এই পরীক্ষাটি এইচসিজি (hCG) নামক হরমোন শনাক্ত করে, যা জরায়ুর অবস্থান নির্বিশেষে আপনার রক্ত এবং প্রস্রাবে উপস্থিত থাকে।

আমাকে কি সি-সেকশন করাতে হবে?

না, পশ্চাৎমুখী জরায়ুর কারণে সি-সেকশনের প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে না। এর অবস্থান প্রসব বেদনা বা প্রসবের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

জরায়ু পশ্চাৎমুখী হলেও কি সহবাস করা সম্ভব?

হ্যাঁ, আপনার জরায়ুর অবস্থান যাই হোক না কেন, আপনার সুস্থ গর্ভাবস্থার পুরো সময় জুড়ে যৌন মিলন সাধারণত নিরাপদ এবং আরামদায়ক।

আমার ডাক্তার বিষয়টি উল্লেখ করলে আমার কি চিন্তিত হওয়া উচিত?

না, আপনার ডাক্তার আপনাকে কেবল একটি স্বাভাবিক শারীরিক ভিন্নতার কথা জানাচ্ছেন। সাধারণত এটিকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে না দেখে, একটি তথ্য হিসেবেই দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।