Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য টিকা: নিজেকে ও আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখুন

By Dr. Ankita Chandna in Obstetrics And Gynaecology , Robotic Surgery , Gynaecologic Laparoscopy

Apr 10 , 2026 | 4 min read

গর্ভাবস্থায় টিকা গ্রহণ মা ও শিশু উভয়কে গুরুতর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। গর্ভাবস্থা উত্তেজনা ও আশায় পূর্ণ, কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে এটি কিছু নির্দিষ্ট রোগের প্রতি সংবেদনশীলতাও বাড়িয়ে তোলে। টিকা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, যা জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রথম মাসগুলোতে মা ও নবজাতক উভয়কে সুরক্ষিত রাখে। এই ব্লগে আমরা আলোচনা করব গর্ভাবস্থায় টিকা গ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ, কোন টিকাগুলো নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং এগুলো মা ও শিশু উভয়ের জন্য কী কী সুবিধা প্রদান করে।

গর্ভাবস্থায় টিকাদানের গুরুত্ব

গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসে স্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে, যা গর্ভবতী মহিলাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। টিকাদান মায়ের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে, ফলে শিশুর গুরুতর অসুস্থতা এবং জটিলতার ঝুঁকি কমে যায়।

কেন টিকাকরণ গুরুত্বপূর্ণ

  • গুরুতর অসুস্থতা থেকে সুরক্ষা: গর্ভবতী মহিলারা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অসুস্থতার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হন, যানিউমোনিয়া , অকাল প্রসব এবং কম ওজনের শিশুর জন্মের কারণ হতে পারে।
  • শিশুকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে: মা যখন টিকা নেন, তখন তাঁর শরীরে উৎপাদিত প্রতিরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি নাভিরজ্জুর মাধ্যমে শিশুর দেহে স্থানান্তরিত হয়, যা জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শিশুকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে।
  • গর্ভাবস্থায় জটিলতা প্রতিরোধ: রুবেলা বা হুপিং কাশির মতো কিছু সংক্রমণের কারণে জন্মগত ত্রুটি, অকাল জন্ম বা গর্ভপাত হতে পারে। টিকাদান এই ঝুঁকিগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য প্রস্তাবিত টিকা

প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে মা ও শিশু উভয়কে সুরক্ষিত রাখতে গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু টিকা নেওয়া অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়। ডাক্তাররা নিম্নলিখিত টিকাগুলোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) টিকা

  • গর্ভাবস্থার যেকোনো ত্রৈমাসিকে সকল গর্ভবতী মহিলাদের জন্য সুপারিশকৃত।
  • এর ফলে ফ্লু-জনিত নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর জটিলতা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন প্রতিরোধ করা যায়।
  • এটি নবজাতক শিশুকে জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও প্রদান করে।

টিড্যাপ টিকা (টিটেনাস, ডিপথেরিয়া এবং হুপিং কাশি)

  • গর্ভাবস্থার ২৭ থেকে ৩৬ সপ্তাহের মধ্যে এটি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • এটি হুপিং কাশি প্রতিরোধে সাহায্য করে, যা নবজাতকদের জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সংক্রমণ হতে পারে।
  • এর ফলে শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা দুই মাস বয়সে টিকা দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে সুরক্ষা দেয়।

কোভিড-19 টিকা

  • কোভিড-১৯ সম্পর্কিত গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি এবং গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতা প্রতিরোধের জন্য এটি জোরালোভাবে সুপারিশ করা হয়।
  • স্থানান্তরিত অ্যান্টিবডির মাধ্যমে শিশুকে সুরক্ষা দেয়।

হেপাটাইটিস বি টিকা

  • হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয়।
  • জন্মের সময় শিশুর দেহে ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

আরএসভি টিকা (রেসপিরেটরি সিনসাইটিয়াল ভাইরাস)

  • গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এটি গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • এটি নবজাতকদের আরএসভি (RSV) দ্বারা সৃষ্ট গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

টিকা কীভাবে নবজাতকদের সুরক্ষা দেয়?

নবজাতকদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অপরিণত থাকে, ফলে তারা সংক্রমণের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়। গর্ভাবস্থায় টিকা গ্রহণ শিশুকে সুরক্ষা প্রদান করে, কারণ প্রতিরক্ষামূলক অ্যান্টিবডিগুলো গর্ভফুল এবং বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর দেহে পৌঁছে যায়।

টিকা কীভাবে নবজাতকদের সুরক্ষা দেয়:

  • নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা: মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত তাকে সুরক্ষা দেয়।
  • অকাল প্রসবের ঝুঁকি হ্রাস: কিছু সংক্রমণ অকাল প্রসবের কারণ হতে পারে, কিন্তু টিকা এই ধরনের জটিলতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধ: শিশুরা হুপিং কাশি এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অসুস্থতার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল; মায়ের টিকাদান এই সংক্রমণগুলির তীব্রতা এবং সম্ভাবনা হ্রাস করে।

টিকার উপকারিতা এবং নিরাপত্তা

টিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা ও নবজাতকদের ক্ষেত্রে, টিকাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। গর্ভাবস্থায় টিকা গ্রহণের উপকারিতা এর সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে অনেক বেশি।

  • মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষা: মা ও শিশু উভয়কে প্রাণঘাতী সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
  • নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: জীবনের প্রথম কয়েক মাস, যখন শিশু সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থাকে, তখন সুরক্ষা প্রদান করে।
  • গর্ভাবস্থায় নিরাপদ: গর্ভাবস্থায় সুপারিশকৃত বেশিরভাগ টিকাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণা করা হয়েছে এবং এগুলো মা ও তার শিশু উভয়ের জন্যই নিরাপদ।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিবেচ্য বিষয়সমূহ:

  • ফ্লু ভ্যাকসিন এবং টিড্যাপ (Tdap) ভ্যাকসিন সকল গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নিরাপদ এবং সুপারিশকৃত।
  • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো সাধারণত মৃদু ও স্বল্পস্থায়ী হয়, যেমন ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথা বা হালকা জ্বর।
  • যেসব টিকাতে জীবন্ত ভাইরাস থাকে এবং গর্ভাবস্থায় গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয় না, তার কয়েকটি উদাহরণ হলো:

জলবসন্তের টিকা, যা ভ্যারিসেলা টিকা নামেও পরিচিত।

হাম, মাম্পস ও রুবেলা (এমএমআর) টিকা।

টিকা সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা এবং আসল তথ্য

ভ্রান্ত ধারণা ১: টিকা শিশুর ক্ষতি করতে পারে।

তথ্য: গর্ভাবস্থায় নেওয়ার জন্য সুপারিশকৃত বেশিরভাগ টিকাতেই মৃত ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং এগুলো মা ও শিশু উভয়ের জন্যই নিরাপদ। এগুলো জন্মের পর শিশুকে বিপজ্জনক সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

ভুল ধারণা ২: যদি আপনি গর্ভধারণের আগে টিকাগুলো নিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার আর টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তথ্য: কিছু টিকার (যেমন ফ্লু ভ্যাকসিন) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সময়ের সাথে সাথে কমে যায়, তাই প্রতিটি গর্ভাবস্থায় টিকা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ভ্রান্ত ধারণা ৩: ফ্লু-এর টিকা নিলে ফ্লু হতে পারে।

তথ্য: ফ্লু ভ্যাকসিন নিষ্ক্রিয় ভাইরাস কণা দিয়ে তৈরি এবং এটি ফ্লু ঘটাতে পারে না। হাতে ব্যথা বা হালকা জ্বরের মতো সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণ।

ভ্রান্ত ধারণা ৪: গর্ভাবস্থা সুস্থ থাকলে টিকার প্রয়োজন নেই।

তথ্য: এমনকি সুস্থ গর্ভবতী নারীদেরও ফ্লু এবং হুপিং কাশির মতো সংক্রমণ থেকে জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। টিকা এই ঝুঁকিগুলো প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

ভ্রান্ত ধারণা ৫: টিকার মাধ্যমে অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার চেয়ে প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো।

তথ্য: স্বাভাবিক সংক্রমণ মা ও শিশু উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে। টিকাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার একটি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত উপায়।

উপসংহার

গর্ভাবস্থায় টিকা গ্রহণ মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নির্ধারিত টিকাদান সময়সূচী অনুসরণ করে গর্ভবতী মহিলারা নিজেদের এবং তাদের শিশুদের গুরুতর অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে পারেন। টিকা সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকলে, ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে পরামর্শ করুন। আপনার সুরক্ষাই আপনার শিশুর সুরক্ষা – আপনাদের উভয়ের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে টিকা নেওয়া কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, ফ্লু ভ্যাকসিনের মতো কিছু ভ্যাকসিন গর্ভাবস্থার যেকোনো পর্যায়েই নিরাপদ। তবে, ভালোভাবে অ্যান্টিবডি স্থানান্তরের জন্য টিড্যাপ (Tdap) এবং আরএসভি (RSV) ভ্যাকসিন গর্ভাবস্থার শেষের দিকে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

টিকা কি গর্ভপাত বা জন্মগত ত্রুটির কারণ হতে পারে?

না। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফ্লু শট এবং টিড্যাপ (Tdap)-এর মতো টিকা গর্ভপাত বা জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায় না। এগুলো এমন সব জটিলতা প্রতিরোধে সাহায্য করে, যা গর্ভপাতের কারণ হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় মা টিকা নিয়ে থাকলে, শিশুদেরও কি টিকা নেওয়ার প্রয়োজন আছে?

হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় টিকা দিলে অস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য শিশুদের নিয়মিত টিকা প্রয়োজন।

গর্ভাবস্থায় কোনো নির্ধারিত টিকা নিতে ভুলে গেলে আমার কী করা উচিত?

আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। মা ও শিশু উভয়কে সুরক্ষিত রাখতে কিছু টিকা প্রসবের পরপরই দেওয়া যেতে পারে।

গর্ভাবস্থায় আমার কি কোভিড-১৯ এবং ফ্লু-এর টিকা একসাথে নেওয়া উচিত?

হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় দুটি টিকাই একসাথে নেওয়া নিরাপদ। সবচেয়ে উপযুক্ত সময় সম্পর্কে আপনার ডাক্তার আপনাকে পরামর্শ দিতে পারেন।