Delhi/NCR:

MOHALI:

Dehradun:

BATHINDA:

Mumbai:

NAGPUR:

LUCKNOW:

BHUBANESWAR:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

তরুণ পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সার: কেন এটি বাড়ছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কী করা যেতে পারে

By Dr Sachin Arakere Nataraj in Uro-Oncology , Robotic Surgery

Apr 15 , 2026 | 4 min read

প্রোস্টেট ক্যান্সারকে প্রায়শই বয়স্ক পুরুষদের রোগ বলে মনে করা হয়, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা সত্যিও। ৫০ বছর বয়সের পর এর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তবে, চল্লিশের কোঠায় থাকা পুরুষদের মধ্যেও এই রোগ এখন আরও ঘন ঘন শনাক্ত হচ্ছে, যার ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে।

কর্মজীবন, পরিবার এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে অনেক পুরুষই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষা করেন। কিন্তু জিনগত কারণ, জীবনযাত্রা এবং সচেতনতা কীভাবে প্রোস্টেটের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে, তা জানতে পারলে তা একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি বোঝা এবং সেদিকে মনোযোগ দিলে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো এমন সময়ে শনাক্ত করা যায়, যখন সেগুলোর সমাধান করা সবচেয়ে সহজ হয়।

কেন কিছু পুরুষের প্রোস্টেট ক্যান্সার আগে হয়

যদিও বয়সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ, বেশ কিছু বিষয় জীবনের প্রথম দিকে প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

পারিবারিক ইতিহাস এবং জেনেটিক্স

জিনগত কারণের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। যেসব পুরুষের বাবা, ভাই বা ছেলের প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়েছে, তাদের সারাজীবনে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন—যেমন BRCA1 এবং BRCA2—এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আপনার পরিবারের চিকিৎসার ইতিহাস জানা থাকলে, কখন স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত তা নির্ধারণ করতে আপনার ডাক্তারকে সুবিধা হয়।

জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাস

আধুনিক জীবনযাত্রায় প্রায়শই প্রক্রিয়াজাত খাবার, কম শারীরিক কার্যকলাপ এবং উচ্চ মানসিক চাপ অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা হরমোনের ভারসাম্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। সময়ের সাথে সাথে, এই কারণগুলো প্রোস্টেট এবং অন্যান্য অঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের অভ্যাস গ্রহণ করলে সামগ্রিক ঝুঁকি কমাতে সাহায্য হতে পারে।

পরিবেশগত কারণ

দূষক পদার্থ, শিল্প রাসায়নিক বা কর্মক্ষেত্রের নির্দিষ্ট বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শও কোষের ক্ষতির কারণ হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে গবেষণা চলমান। একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা এবং সম্ভব হলে এর সংস্পর্শ কমানো একটি বুদ্ধিমান প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ।

প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করা

প্রোস্টেট ক্যান্সার সাধারণত ধীরে ধীরে বাড়ে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোনো লক্ষণীয় উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তবে, মূত্রনালী বা যৌন স্বাস্থ্যের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সম্ভাব্য সতর্কীকরণ লক্ষণগুলো হলো:

  • ঘন ঘন প্রস্রাব, বিশেষ করে রাতে
  • দুর্বল বা বাধাগ্রস্ত প্রস্রাব প্রবাহ
  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
  • প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত
  • কোমর, নিতম্ব বা উরুতে ক্রমাগত ব্যথা

দ্রষ্টব্য: এই লক্ষণগুলো শুধুমাত্র প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রেই দেখা যায় না, বিশেষ করে তরুণ পুরুষদের ক্ষেত্রে। এগুলো প্রোস্টাটাইটিস (প্রদাহ) বা বিনাইন প্রোস্ট্যাটিক এনলার্জমেন্টের মতো সাধারণ শারীরিক অবস্থার কারণেও হতে পারে। তবে, কোনো দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের দ্বারা পরীক্ষা করানো উচিত।

প্রোস্টেট স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কলঙ্ক দূর করা

অস্বস্তি বা লজ্জার কারণে প্রায়শই প্রোস্টেট স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু এই নীরবতা ভাঙা অত্যন্ত জরুরি। খোলামেলা আলোচনা পুরুষদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত সাহায্য চাইতে উৎসাহিত করে।

কেন স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ

উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রোস্টেটের পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়। এতে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • পিএসএ রক্ত পরীক্ষা: প্রোস্টেট-নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের মাত্রা পরিমাপ করে।
  • ডিজিটাল রেক্টাল এক্সাম (ডিআরই): এর মাধ্যমে ডাক্তাররা অস্বাভাবিকতা অনুভব করতে পারেন।

কখন স্ক্রিনিং শুরু করতে হবে:

  • বেশিরভাগ পুরুষের জন্য বয়স ৫০
  • উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বয়স ৪৫ (পারিবারিক ইতিহাস)
  • ৪৫ বছর বয়সের আগে শুধুমাত্র উপসর্গ বা নির্দিষ্ট ঝুঁকির কারণ থাকলে।

৪০ বছর বয়সের আগে সাধারণ জনগণের জন্য নিয়মিত স্ক্রিনিং করার সুপারিশ করা হয় না, কারণ প্রমাণে এই গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এর কোনো সুস্পষ্ট উপকারিতা দেখা যায় না।

প্রোস্টেটের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

যদিও কোনো জীবনশৈলীই প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না, কিছু অভ্যাস প্রোস্টেট এবং সার্বিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

বুদ্ধি করে খান

ফল, শাকসবজি, শস্যদানা এবং চর্বিহীন প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি সুষম খাদ্যতালিকা হরমোনের ভারসাম্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। টমেটো, বেরি এবং সবুজ শাকসবজির মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার বিশেষভাবে উপকারী।

শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন

নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে বেশ কয়েকবার হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো বা রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং করার চেষ্টা করুন।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হরমোনের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মাইন্ডফুলনেস, যোগব্যায়াম বা কেবল বাইরে সময় কাটানোর মতো শিথিলকরণ কৌশলগুলো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

মদ্যপান সীমিত করুন এবং ধূমপান পরিহার করুন।

এই দুটি অভ্যাসই শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়, যা কোষের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এগুলো কমিয়ে আনলে আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।

ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন

হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং টিস্যু মেরামতের জন্য ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের খারাপ অভ্যাস প্রোস্টেট স্বাস্থ্য সহ দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

পারিবারিক ঝুঁকি এবং জিনগত সচেতনতা বোঝা

আপনার পরিবারে যদি প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, তবে সচেতনতাই আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। আপনার পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন, যাতে তিনি আপনার জন্য ব্যক্তিগত স্ক্রিনিং পরিকল্পনা সুপারিশ করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে, ঝুঁকি বাড়ায় এমন বংশগত মিউটেশন শনাক্ত করার জন্য জেনেটিক পরীক্ষা করা উপযুক্ত হতে পারে।

এর উদ্দেশ্য উদ্বেগ সৃষ্টি করা নয়, বরং জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আগাম ও সক্রিয় পরিচর্যার নির্দেশনা দেওয়া।

উপসংহার

যদিও প্রোস্টেট ক্যান্সার এখনও বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে অনেক বেশি দেখা যায়, তবুও এ বিষয়ে সচেতনতা আগে থেকেই শুরু করা উচিত।

পারিবারিক ঝুঁকি বোঝা, দীর্ঘস্থায়ী মূত্রনালী বা শ্রোণী সংক্রান্ত উপসর্গ লক্ষ্য করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা প্রতিরোধের মূল পদক্ষেপ।

মনে রাখবেন: কম বয়সী পুরুষদের প্রোস্টেটের বেশিরভাগ সমস্যাই ক্যান্সার নয়, তবে আগেভাগে পরীক্ষা করালে মানসিক শান্তি পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনে সময়মতো চিকিৎসা লাভ করা সম্ভব হয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১. প্রোস্টেট ক্যান্সার কি কম বয়সী পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে?

হ্যাঁ, কিছু চিকিৎসা প্রজনন ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার যদি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তবে চিকিৎসা শুরুর আগে শুক্রাণু সংরক্ষণের উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করুন।

২. এই লক্ষণগুলো কি সবসময় প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইঙ্গিত দেয়?

না, মূত্রনালী বা শ্রোণী অঞ্চলের অনেক উপসর্গের কারণ ক্যান্সারজনিত নয়, বরং সংক্রমণ বা প্রদাহের মতো হয়ে থাকে। তবুও, কোনো গুরুতর রোগ নেই তা নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৩. প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে তার সঙ্গীরা কীভাবে সহায়তা করতে পারেন?

মানসিক সমর্থন, সাক্ষাতের সময় উপস্থিত থাকা এবং যোগাযোগ খোলা রাখা—এই সবই সহায়ক। চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি বুঝতে পারলে সম্পর্কগুলো আরও মজবুত হয় এবং পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা উন্নত হয়।

৪. চিকিৎসার পর কোন জীবনযাত্রার অভ্যাসগুলো সহায়ক হয়?

সুষম পুষ্টি, হালকা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা—এই সবই আরোগ্য লাভ ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৫. মানসিক স্বাস্থ্য কি আরোগ্যকে প্রভাবিত করে?

হ্যাঁ, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, কাউন্সেলিং বা সহায়তা গোষ্ঠীতে যোগদান মানসিক সুস্থতা উন্নত করতে এবং সার্বিক আরোগ্য ত্বরান্বিত করতে পারে।