Delhi/NCR:

MOHALI:

Dehradun:

BATHINDA:

Mumbai:

NAGPUR:

LUCKNOW:

BHUBANESWAR:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

নবজাতকের স্ক্রিনিং পরীক্ষা: আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য প্রাথমিক শনাক্তকরণ

By Dr. Amit Valbhani in Neonatology , Paediatrics (Ped)

Apr 15 , 2026 | 4 min read

পৃথিবীতে একটি নতুন শিশুকে স্বাগত জানানো আনন্দ, আশা এবং উত্তেজনায় পরিপূর্ণ একটি মুহূর্ত। বাবা-মা হিসেবে, আপনার নবজাতকের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিশ্চিত করা স্বাভাবিকভাবেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। জন্মের সময় আপনার শিশুকে সুস্থ মনে হলেও, জীবনের প্রথম কয়েক দিনে কিছু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে।

এইখানেই নবজাতকের স্ক্রিনিং পরীক্ষাগুলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পরীক্ষাগুলো কিছু নির্দিষ্ট জিনগত, হরমোনজনিত এবং বিপাকীয় রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে, প্রায়শই কোনো উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই শনাক্ত করে, যার ফলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায় এবং এর মাধ্যমে আজীবনের জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়, এমনকি শিশুর জীবনও বাঁচানো যায়।

নবজাতকের স্ক্রিনিং টেস্ট বলতে কী বোঝায়?

নবজাতক স্ক্রিনিং বলতে জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে করা কয়েকটি সহজ, দ্রুত এবং ব্যথাহীন পরীক্ষাকে বোঝায়। এর প্রধান লক্ষ্য হলো এমন বিরল কিন্তু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করা, যা শিশুর বৃদ্ধি, বিকাশ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই পরীক্ষাগুলো সাধারণত জন্মের ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করা হয়। এই স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে জন্মগত (কনজেনিটাল) সমস্যাগুলো শনাক্ত করা হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ চিকিৎসার ফলাফলকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে।

স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া সাধারণ রোগসমূহ

  • ফেনাইলকিটোনুরিয়া (পিকেওইউ): এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীর ফেনাইলঅ্যালানিন নামক অ্যামিনো অ্যাসিড ভাঙতে পারে না, যার ফলে চিকিৎসা না করা হলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে।
  • মেপল সিরাপ ইউরিন ডিজিজ (এমএসইউডি): এর মিষ্টি গন্ধযুক্ত প্রস্রাবের জন্য এই নামকরণ করা হয়েছে। এই রোগটি নির্দিষ্ট কিছু অ্যামিনো অ্যাসিডের ভাঙনে বাধা দেয়, যার প্রতিকার না করা হলে স্নায়বিক ক্ষতি হতে পারে।
  • জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম: এটি তখন ঘটে যখন থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত পরিমাণে হরমোন তৈরি করতে পারে না। এর চিকিৎসা না করা হলে শারীরিক বৃদ্ধি বিলম্বিত হতে পারে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা দেখা দিতে পারে।
  • সিস্টিক ফাইব্রোসিস: এটি ঘন শ্লেষ্মা তৈরির কারণে ফুসফুস এবং পরিপাকতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, যার ফলে বারবার সংক্রমণ এবং অপুষ্টি দেখা দেয়।
  • সিকেল সেল অ্যানিমিয়া: লোহিত রক্তকণিকার অস্বাভাবিকতার কারণে অ্যানিমিয়া , তীব্র ব্যথা এবং অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।
  • শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা: প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ সম্ভব হলে শ্রবণযন্ত্র বা থেরাপির মতো দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, যা স্বাভাবিক বাক ও ভাষা বিকাশে সহায়তা করে।
  • গুরুতর জন্মগত হৃদরোগ (CCHD): জন্মের সময় উপস্থিত কাঠামোগত হৃদরোগ প্রাণঘাতী হতে পারে, কিন্তু স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব, যা জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়।

স্ক্রিনিং প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে

ব্লাড স্পট টেস্ট (হিল প্রিক টেস্ট): আপনার শিশুর পায়ের গোড়ালি থেকে একটি বিশেষ ফিল্টার পেপার কার্ডের উপর কয়েক ফোঁটা রক্ত সংগ্রহ করা হয়। বিভিন্ন ধরনের বিপাকীয়, বংশগত এবং হরমোনজনিত রোগ পরীক্ষা করার জন্য নমুনাটি বিশ্লেষণের জন্য একটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

শ্রবণ পরীক্ষা: সাধারণত শিশু ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এই ব্যথাহীন পরীক্ষাটি করা হয়। এতে মৃদু শব্দ এবং সেন্সর ব্যবহার করে সম্ভাব্য শ্রবণশক্তি হ্রাস শনাক্ত করা হয়। এর জন্য প্রধানত দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়:

  • অটোঅ্যাকোস্টিক নির্গমন (OAE)
  • শ্রবণ মস্তিষ্ককাণ্ড প্রতিক্রিয়া (ABR)

পালস অক্সিমেট্রি টেস্ট: এই দ্রুত ও অ-আক্রমণাত্মক পরীক্ষাটিতে শিশুর ত্বকের উপর একটি ছোট সেন্সর স্থাপন করে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপ করা হয়, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল দেয়। অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকলে তা কোনো গুরুতর জন্মগত হৃদরোগের ইঙ্গিত দিতে পারে।

প্রাথমিক সনাক্তকরণের সুবিধা

  • গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা প্রতিরোধ: প্রাথমিক হস্তক্ষেপ এমন অবস্থার অগ্রগতি রোধ করতে পারে যা অন্যথায় অপরিবর্তনীয় ক্ষতি করতে পারে।
  • চিকিৎসার উন্নত ফলাফল: অনেক রোগই প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ওষুধ, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • উন্নত জীবনমান: রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা হলে শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের সর্বোত্তম সুযোগ নিশ্চিত হয়।
  • দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানো: রোগের গুরুতর পর্যায়ে জটিলতা সামলানোর চেয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রায়শই অনেক কম ব্যয়বহুল হয়।

অভিভাবকদের উদ্বেগের সমাধান

পরীক্ষাটি কি বেদনাদায়ক?

গোড়ালিতে সামান্য সূঁচ ফোটানো ছাড়া, যা অল্প সময়ের জন্য অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে, এই পদ্ধতিগুলো মূলত ব্যথাহীন এবং অনাক্রমণাত্মক।

কোনো ঝুঁকি আছে কি?

ঝুঁকি খুবই কম। গোড়ালিতে সূঁচ ফোটানোর ফলে সামান্য কালশিটে বা অস্বস্তি হতে পারে, তবে তা অস্থায়ী।

স্ক্রিনিংয়ের ফলাফল অস্বাভাবিক হলে কী হবে?

একটি অস্বাভাবিক ফলাফলের মানে এই নয় যে আপনার শিশুর কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা আছে। এর সহজ অর্থ হলো, রোগ নির্ণয়টি নিশ্চিত করতে বা বাতিল করতে আরও পরীক্ষার প্রয়োজন।

উপসংহার

নবজাতকের স্ক্রিনিং পরীক্ষাগুলো শিশুদের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে, প্রায়শই উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করার এক অনন্য সুযোগ করে দেয়। এই সমস্যাগুলো আগেভাগে শনাক্ত করার মাধ্যমে, বাবা-মা এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সময়মতো চিকিৎসা এবং উন্নত দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করতে পারেন। এই পরীক্ষাগুলোতে কয়েক মিনিট সময় বিনিয়োগ করা আপনার সন্তানের জন্য আজীবন সুস্বাস্থ্য বয়ে আনতে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

ভারতে নবজাতকের স্ক্রিনিং পরীক্ষা কি বাধ্যতামূলক?

না, এগুলো দেশব্যাপী বাধ্যতামূলক নয়। কিছু রাজ্য এবং বেসরকারি হাসপাতাল নিয়মিতভাবে এগুলো প্রদান করে থাকে, কিন্তু যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তবে অভিভাবকদের এর জন্য অনুরোধ করা উচিত।

নবজাতকের স্ক্রিনিং কি সব জিনগত রোগ শনাক্ত করতে পারে?

না, স্ক্রিনিং শুধুমাত্র সেইসব নির্দিষ্ট রোগকেই অন্তর্ভুক্ত করে যেগুলো চিকিৎসাগত, প্রযুক্তিগত এবং ব্যয়-সাশ্রয়ীতার মানদণ্ড পূরণ করে। অনেক বিরল জিনগত রোগ প্রচলিত স্ক্রিনিং প্যানেলের অংশ নয়।

পরীক্ষার আগে আমার বাচ্চাকে কি উপবাস করতে হবে?

না, নবজাতকের স্ক্রিনিংয়ের জন্য উপবাসের প্রয়োজন নেই। খাওয়ানোর সময়সূচী নির্বিশেষে পরীক্ষাগুলো করা যেতে পারে।

আমার বাচ্চা সময়ের আগে জন্মালে ফলাফল কি পরিবর্তিত হতে পারে?

হ্যাঁ, অপরিণত শিশুদের রক্তের মান ভিন্ন হতে পারে, যার ফলে ফলস পজিটিভ ফলাফল আসতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, পুনরায় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

কোনো রোগ শনাক্ত হলে কত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে?

ফলো-আপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরেই চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে, যা প্রায়শই জন্মের প্রথম কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যেই হয়ে থাকে।

স্ক্রিনিং প্যানেলে আরও শর্ত যোগ করা কি সম্ভব?

হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবকরা বেসরকারি পরীক্ষাগারের মাধ্যমে নবজাতকের বর্ধিত স্ক্রিনিংয়ের জন্য অনুরোধ করতে পারেন, যা প্রচলিত কর্মসূচির চেয়ে আরও বিস্তৃত পরিসরের রোগ শনাক্ত করতে পারে।