Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

কিশোর-কিশোরীদের হৃদরোগ: লক্ষণ, জীবনযাত্রার প্রভাব এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

By Dr. Ripen Gupta in Cardiac Sciences , Cardiology , Interventional Cardiology , Cardiac Electrophysiology-Pacemaker

Apr 15 , 2026 | 3 min read

আজকের কিশোর-কিশোরীরা পড়াশোনার চাপ থেকে শুরু করে ব্যস্ত সামাজিক জীবন পর্যন্ত আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। কিন্তু অনেক পরিবারই বুঝতে পারে না যে, প্রাপ্তবয়স্কদের মতো কিশোর-কিশোরীদের জন্যও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদিও হৃদরোগকে প্রায়শই প্রাপ্তবয়স্কদের সমস্যা বলে মনে করা হয়, কৈশোরে গড়ে ওঠা অভ্যাসগুলো একটি সুস্থ হৃদয়ের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে অথবা পরবর্তী জীবনে বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। কিশোর-কিশোরীদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য কীভাবে রক্ষা করতে হয় তা জানা থাকলে, তারা এখন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সাধারণ হৃদরোগ

যদিও প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে হৃদরোগের সমস্যা কম দেখা যায়, তবুও এই সমস্যা হয়ে থাকে এবং তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। কিশোর-কিশোরীদের কিছু হৃদরোগের মধ্যে রয়েছে:

  • জন্মগত হৃদরোগ: জন্মগত ত্রুটি, যেমন হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র বা ভালভের সমস্যা, ক্লান্তি , শ্বাসকষ্ট বা অপর্যাপ্ত বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
  • অ্যারিথমিয়াস (অনিয়মিত হৃদস্পন্দন): কিশোর-কিশোরীদের হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হতে পারে, যার ফলে মাথা ঘোরা , বুক ধড়ফড় করা বা জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
  • কার্ডিওমায়োপ্যাথি: এমন একটি রোগ যা হৃৎপেশীকে অতিরিক্ত পুরু বা দুর্বল করে তোলে, যার ফলে বুকে ব্যথা বা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
  • হার্টের ভালভের সমস্যা: মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপসের মতো অবস্থা রক্ত প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে শারীরিক কার্যকলাপের সময় বুকে অস্বস্তি বা জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
  • কাওয়াসাকি রোগের পরবর্তী প্রভাব: যেসব কিশোর-কিশোরী শৈশবে কাওয়াসাকি রোগে আক্রান্ত হয়েছিল, তাদের হৃৎপিণ্ডের ধমনী সংকুচিত হয়ে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

এই অবস্থাগুলো সম্পর্কে জানার মাধ্যমে অভিভাবক ও কিশোর-কিশোরীরা সতর্ক হতে পারেন এবং দ্রুত সাহায্য চাইতে পারেন।

যেসব লক্ষণ ও উপসর্গের দিকে নজর রাখতে হবে

হৃদরোগের লক্ষণগুলো আগেভাগে শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা এবং কিশোর-কিশোরীদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলিতে মনোযোগ দেওয়া উচিত:

  • ব্যায়ামের সময় বা বিশ্রামের সময় বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি
  • শ্বাসকষ্ট , বিশেষত হালকা পরিশ্রমের সময়
  • মাথা ঘোরা, জ্ঞান হারানো, বা মাথা হালকা লাগা
  • দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
  • পায়ে, গোড়ালিতে বা পায়ের পাতায় ফোলাভাব

এই লক্ষণগুলো কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয় এবং এগুলো দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

জীবনযাত্রার পছন্দ কীভাবে কিশোর-কিশোরীদের হৃদস্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে

দৈনন্দিন অভ্যাস কিশোর-কিশোরীদের হৃদস্বাস্থ্যকে রক্ষা করতে বা ক্ষতি করতে পারে। এখানে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:

  • খাদ্যাভ্যাস: জাঙ্ক ফুড, চিনিযুক্ত পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্থূলতা এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিশোর-কিশোরীদের প্রচুর পরিমাণে ফল, শাকসবজি, শস্যদানা, চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি খেতে উৎসাহিত করুন।
  • ব্যায়াম: শারীরিক কার্যকলাপ হৃৎপিণ্ডকে শক্তিশালী করে। কিশোর-কিশোরীদের প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র ব্যায়াম করার লক্ষ্য রাখা উচিত, যেমন খেলাধুলা, নাচ, সাইকেল চালানো বা দ্রুত হাঁটা।
  • ঘুম: ঘুমের অভাব উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। কিশোর-কিশোরীদের প্রতি রাতে প্রায় ৮-১০ ঘণ্টা ভালো ঘুম প্রয়োজন।
  • ধূমপান ও ভ্যাপিং: সিগারেট ও ই-সিগারেট রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কিশোর-কিশোরীদের সাথে নিকোটিনের বিপদ সম্পর্কে খোলামেলাভাবে কথা বলুন এবং এটি পরিহার করতে তাদের উৎসাহিত করুন।

কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিয়মিত হৃদযন্ত্র পরীক্ষার গুরুত্ব

কিশোর-কিশোরীদের জন্য বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি তারা নিজেদের সুস্থ মনে করলেও। নিয়মিত ডাক্তারের কাছে গেলে কিশোর বয়সের হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা, রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করা এবং যেকোনো উদ্বেগজনক উপসর্গ নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হয়। যেসব কিশোর-কিশোরীর পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস বা জন্মগত হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ECG) বা ইকোকার্ডিওগ্রামের মতো অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে আজীবন হৃদস্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলবেন

কিশোর-কিশোরীদের এখন থেকেই হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করলে, তা আগামী বহু বছর ধরে তাদের উপকারে আসবে। যেভাবে:

  • স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন: বাবা-মায়েরা ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়া, সক্রিয় থাকা এবং কার্যকরভাবে মানসিক চাপ সামলানোর মাধ্যমে তাদের কিশোর-কিশোরীদের অনুপ্রাণিত করতে পারেন।
  • স্বাস্থ্যকে মজাদার করে তুলুন: একসঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করুন, সপরিবারে হাইকিংয়ে যান, অথবা কোনো ক্রীড়া দলে নাম লেখান।
  • খোলামেলাভাবে কথা বলুন: হৃদস্বাস্থ্য এবং এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করুন। কিশোর-কিশোরীদের প্রশ্ন করতে এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে দিন।
  • স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন: ফোন, ট্যাবলেট ও টিভি ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করে আরও বেশি শারীরিক কার্যকলাপকে উৎসাহিত করুন।
  • ইতিবাচক থাকুন: ছোট ছোট সাফল্য উদযাপন করুন, যেমন সোডার পরিবর্তে জল বেছে নেওয়া বা অল্প দূরত্বে গাড়ি চালানোর পরিবর্তে হেঁটে যাওয়া।

কিশোর-কিশোরীদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার মাধ্যমে অভিভাবকরা একটি শক্তিশালী ও সুস্থ হৃদয়ের ভিত্তি স্থাপন করতে সাহায্য করেন।

উপসংহার

কিশোর-কিশোরীদের হৃদস্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সচেতন থাকার মাধ্যমে, হৃদবান্ধব অভ্যাস গ্রহণে উৎসাহিত করে এবং সমস্যার লক্ষণগুলো আগেভাগে শনাক্ত করার মাধ্যমে, বাবা-মা ও কিশোর-কিশোরীরা একসঙ্গে হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে এবং আজীবন সুস্থতা গড়ে তুলতে পারে। আপনার কিশোর বা কিশোরীর হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতে এবং তাদের একটি উজ্জ্বল ও সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে আজই আলোচনা শুরু করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

একজন ডাক্তার একজন কিশোর বা কিশোরীর জন্য কী কী হার্ট পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন?

যেসব কিশোর-কিশোরীর মধ্যে হৃদরোগের লক্ষণ দেখা যায় বা যাদের পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য ডাক্তাররা ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম, ইকোকার্ডিওগ্রাম বা স্ট্রেস টেস্ট করার পরামর্শ দিতে পারেন।

বংশগত অবস্থার কারণে কি কিশোর-কিশোরীদের হৃদরোগ হতে পারে?

হ্যাঁ, হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি বা অ্যারিথমিয়া সিন্ড্রোমের মতো বংশগত রোগ কিশোর-কিশোরীদের প্রভাবিত করতে পারে। পারিবারিক ইতিহাস জানা থাকলে ডাক্তারদের ঝুঁকি নির্ণয় করতে সুবিধা হয়।

মানসিক চাপ কিশোর-কিশোরীদের হৃদস্বাস্থ্যের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে?

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিতে পারে। শখ, কাউন্সেলিং বা শিথিলকরণ কৌশলের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করলে তা হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

যেসব কিশোর-কিশোরী খেলাধুলা করে, তাদের কি হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে?

খেলাধুলা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও, কার্ডিওমায়োপ্যাথির মতো অন্তর্নিহিত রোগ হঠাৎ হৃদরোগের কারণ হতে পারে। অংশগ্রহণের পূর্বে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিগুলো আগেভাগেই শনাক্ত করা যায়।

ক্যাফেইন কি কিশোর-কিশোরীদের হৃদপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকর?

এনার্জি ড্রিংক বা কফি থেকে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে কিশোর-কিশোরীদের হৃদস্পন্দন দ্রুত হতে পারে বা রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, তাই পরিমিত গ্রহণই সর্বোত্তম।