Delhi/NCR:

MOHALI:

Dehradun:

BATHINDA:

Mumbai:

NAGPUR:

LUCKNOW:

BHUBANESWAR:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

শিশুদের অটিজম: প্রাথমিক লক্ষণ, কারণ ও রোগ নির্ণয়

By Dr. Sanjay Sharma in Paediatrics (Ped)

May 05 , 2026

অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) হলো একটি বিকাশজনিত অবস্থা যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এটি সাধারণত আজীবন স্থায়ী হয় এবং একজন ব্যক্তির যোগাযোগ, অন্যের সাথে মেলামেশা, আচরণ এবং সংবেদী তথ্য প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে।

একে “স্পেকট্রাম” বলা হয়, কারণ এটি ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন উপায়ে এবং বিভিন্ন মাত্রায় প্রভাবিত করে। কিছু শিশুর উল্লেখযোগ্য সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে, আবার অন্যরা আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। অটিজমের সঠিক কারণ পুরোপুরি বোঝা যায়নি, তবে বর্তমান গবেষণা জিনগত এবং পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণের দিকে ইঙ্গিত করে।

এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, অটিজম ত্রুটিপূর্ণ লালন-পালন, টিকা বা খাদ্যাভ্যাসের কারণে হয় না। অটিজমে আক্রান্ত শিশুদেরও, অন্য সব শিশুর মতোই, নিজস্ব কিছু বিশেষ গুণের পাশাপাশি প্রতিবন্ধকতাও থাকে।

কেন প্রাথমিক শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ

অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক শনাক্তকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জীবনের প্রথম দুই বছরে মস্তিষ্কের বিকাশ সবচেয়ে দ্রুত হয় এবং পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে প্রাথমিক বিকাশের বেশিরভাগই সম্পন্ন হয়ে যায়।

দুই বছর বয়সের আগে যদি বিকাশগত সমস্যা শনাক্ত করা হয়, তবে এমন একটি পর্যায়ে প্রাথমিক হস্তক্ষেপ শুরু করা যেতে পারে যখন মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি অভিযোজনক্ষম থাকে। এর ফলে সময়ের সাথে সাথে যোগাযোগ, আচরণ এবং শেখার ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে।

প্রাথমিক লক্ষণ এবং বিপদ সংকেত

দুই থেকে তিন বছর বয়সের মধ্যেই অটিজমের অনেক লক্ষণ দেখা যায়। এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে পারলে অভিভাবকরা সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগের চ্যালেঞ্জ

অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের যোগাযোগ এবং সামাজিক মেলামেশার ধরনে ভিন্নতা দেখা যেতে পারে। এর কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:

  • সীমিত বা কোনো চোখের যোগাযোগ নেই
  • হাত নাড়ানো বা ইশারা করার মতো অঙ্গভঙ্গির ব্যবহার হ্রাস পেয়েছে
  • ১২ মাস ধরে তাদের নামে সাড়া না দেওয়া
  • ১৪ মাস ধরে আগ্রহ প্রকাশ করে কোনো কিছুর দিকে ইশারা না করা (যেমন উড়োজাহাজের দিকে)
  • যৌথ কার্যকলাপে আগ্রহের অভাব
  • বাবা-মায়ের সাথে খুব কমই আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, যেমন খেলনা দেখানো
  • দেরিতে কথা বলা বা অস্বাভাবিক কথা বলার ধরণ, যার মধ্যে বাক্যাংশের পুনরাবৃত্তি অন্তর্ভুক্ত

আচরণ এবং খেলার ধরণ

কিছু আচরণগত ধরণও লক্ষণীয় হতে পারে:

  • পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া যেমন দোল খাওয়া, হাত নাড়ানো বা ঘোরানো।
  • রুটিনের প্রতি প্রবল ঝোঁক এবং ছোটখাটো পরিবর্তনে অস্বস্তি।
  • বস্তুর নির্দিষ্ট অংশের উপর তীব্র মনোযোগ, যেমন চাকা
  • সীমিত কাল্পনিক খেলা; খেলার পরিবর্তে খেলনাগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজাতে পারে।

অস্বাভাবিক সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া

অটিজম আক্রান্ত শিশুরা দৈনন্দিন সংবেদনশীল অভিজ্ঞতার প্রতি ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে:

  • উচ্চ শব্দ বা উজ্জ্বল আলোর প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া
  • খাবার বা পোশাকের নির্দিষ্ট কিছু গঠন পরিহার করা
  • নির্দিষ্ট বস্তু বা আন্দোলনের প্রতি অস্বাভাবিক আগ্রহ
  • সাধারণত মনোযোগ আকর্ষণকারী সংবেদী উদ্দীপনার প্রতি প্রতিক্রিয়া হ্রাস পাওয়া

রোগ নির্ণয়ের পথ বোঝা

শিশুর বিকাশ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে, একটি সুসংগঠিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রাথমিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

ধাপ ১: প্রাথমিক উদ্বেগ (পিতামাতা বা তত্ত্বাবধায়ক)

শিশুর বিকাশের পর্যায়গুলো, যেমন—কথা বলা, শারীরিক দক্ষতা বা সামাজিক মেলামেশায় ঘাটতি দেখা গেলে বাবা-মা-ই প্রায়শই প্রথম তা লক্ষ্য করেন। এই পর্যবেক্ষণগুলোর ওপর আস্থা রাখা জরুরি।

ধাপ ২: প্রাথমিক মূল্যায়ন (শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ)

পরবর্তী ধাপে একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করতে হয়। ডাক্তার শিশুটির অগ্রগতি মূল্যায়ন করার জন্য বিকাশমূলক স্ক্রিনিং পরীক্ষা করবেন। এছাড়াও, বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে এমন অন্যান্য অবস্থা, যেমন শ্রবণ সমস্যা, বাদ দেওয়ার জন্য একটি শারীরিক পরীক্ষাও করা হয়।

ধাপ ৩: বিশেষজ্ঞের কাছে প্রেরণ

প্রয়োজন হলে, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আরও মূল্যায়ন ও সহায়তার জন্য শিশুটিকে বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠাতে পারেন।

  • একজন বিকাশমূলক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অটিজম, এডিএইচডি বা সার্বিক বিকাশগত বিলম্বের মতো অবস্থা নির্ণয় করতে পারেন।
  • একজন শিশু মনোবিজ্ঞানী জ্ঞানীয়, আবেগীয় এবং আচরণগত বিকাশ মূল্যায়ন করেন।
  • প্রারম্ভিক হস্তক্ষেপ কেন্দ্রগুলো একটি বহুমাত্রিক পদ্ধতি প্রদান করে, যেখানে প্রায়শই স্পিচ থেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট এবং ফিজিক্যাল থেরাপিস্টরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন।

উপসংহার

একটি শিশুর বিকাশে সহায়তা করার প্রথম ধাপ হলো অটিজমকে বোঝা। লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো ডাক্তারি মূল্যায়ন এবং যথাযথ হস্তক্ষেপ একটি শিশুর অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে। এই যাত্রাপথে সন্তানকে পর্যবেক্ষণ করা, সাহায্য চাওয়া এবং সমর্থন করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়েরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Written and Verified by: