Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

BRAIN ATTACK:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

শৈশবের স্থূলতা কী: প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাসের ভূমিকা

By Dr (Prof) Atul N.C. Peters in General Surgery , Laparoscopic / Minimal Access Surgery , Bariatric Surgery / Metabolic , Department of General Surgery and Robotics

Apr 15 , 2026 | 13 min read

আধুনিক বিশ্বে শৈশবের স্থূলতা অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ শিশুকে প্রভাবিত করছে। যদিও এর কারণগুলো জটিল ও বিভিন্ন, তবে প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং তরুণদের মধ্যে স্ক্রিন ব্যবহারের সময়ের নাটকীয় বৃদ্ধিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এই দুটি বিষয় একত্রে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে অস্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই পরিবারগুলোর জন্য এর প্রভাব বোঝা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার উপায় খুঁজে বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্লগে আমরা আলোচনা করব কীভাবে প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস শৈশবের স্থূলতায় ভূমিকা রাখে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, এ বিষয়ে আমরা কী করতে পারি।

শৈশবের স্থূলতা কী এবং এটি অতিরিক্ত ওজন থেকে কীভাবে আলাদা?

শৈশবের স্থূলতা একটি চিকিৎসাগত অবস্থা, যেখানে শিশুর শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে যা তার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুদের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ব্যবহার করে এটি পরিমাপ করা হয়, যেখানে তাদের বয়স এবং লিঙ্গ বিবেচনায় নেওয়া হয়।

যখন কোনো শিশুর বিএমআই (BMI) স্বাস্থ্যকর সীমার উপরে কিন্তু স্থূলতার প্রান্তসীমার নিচে থাকে, তখন তাকে অতিরিক্ত ওজনসম্পন্ন বলে গণ্য করা হয়। এর বিপরীতে, যখন কোনো শিশুর বিএমআই উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়, তখন তাকে স্থূল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো স্বাস্থ্যগত সমস্যার অধিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

শৈশবের স্থূলতার সাথে সম্পর্কিত স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলো কী কী?

শৈশবের স্থূলতা নানা ধরনের গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বহন করে, যা একটি শিশুকে নিকট ভবিষ্যতে এবং পরবর্তী জীবনেও প্রভাবিত করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

স্বল্পমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকি

  • উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল: শরীরে অতিরিক্ত মেদ হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালীর উপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে উচ্চ রক্তচাপকোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অবস্থাগুলো শিশুদের মধ্যেও দেখা দিতে পারে এবং অল্প বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
  • শ্বাসকষ্ট: স্থূলকায় শিশুদের স্লিপ অ্যাপনিয়া , হাঁপানি বা শারীরিক কার্যকলাপের সময় শ্বাসকষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই সমস্যাগুলো কর্মশক্তি, ঘুমের গুণমান এবং সার্বিক দৈনন্দিন কার্যকলাপকে প্রভাবিত করতে পারে।
  • অস্থিসন্ধি ও হাড়ের সমস্যা: অতিরিক্ত ওজন বাড়ন্ত হাড় ও অস্থিসন্ধির উপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে ব্যথা, অস্বস্তি এবং খেলাধুলা বা অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণে অসুবিধা হতে পারে।
  • আবেগিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা: স্থূলতায় ভুগছে এমন শিশুরা উপহাস, উৎপীড়ন বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হতে পারে। এর ফলে তাদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ কমে যেতে পারে, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে, যা তাদের আবেগিক বিকাশকে প্রভাবিত করে।

দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকি

  • টাইপ ২ ডায়াবেটিস: শৈশবের স্থূলতা ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি বাড়ায়, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে। অল্প বয়সে ডায়াবেটিস হলে তা সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর জন্য আজীবন ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়।
  • হৃদরোগ: স্থূল শিশুদের পরবর্তী জীবনে উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার সমস্যাসহ হৃদরোগজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে। শৈশবের স্থূলতা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় হৃদরোগের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
  • কিছু নির্দিষ্ট ক্যান্সার: দীর্ঘমেয়াদী স্থূলতার সাথে কোলন, কিডনি এবং লিভার ক্যান্সারের মতো ক্যান্সার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে, যার আংশিক কারণ হলো শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং বিপাকীয় পরিবর্তন।
  • প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় স্থূলতা অব্যাহত থাকা: যেসব শিশু স্থূল হয়, তাদের প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়ও স্থূল থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে, যা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং অস্থিসন্ধির সমস্যার মতো দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বয়ে আনে। এটি জীবনযাত্রার মান এবং আয়ুষ্কালকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার কীভাবে শৈশবের স্থূলতায় ভূমিকা রাখে?

প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রতিটি পরিবারে এতটাই সাধারণ ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কারণ এটি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত, সাশ্রয়ী এবং এর ব্যাপক বিপণন করা হয়। তবে, এই খাবারগুলো প্রায়শই উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে, কারণ এগুলো পুষ্টির চেয়ে স্বাদ ও সুবিধার জন্য তৈরি করা হয়। বেশ কিছু কারণ প্রক্রিয়াজাত খাবারকে শিশুদের স্থূলতার একটি প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে।

১. উচ্চ ক্যালোরি এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত

অনেক প্রক্রিয়াজাত খাবার, যেমন চিপস, ভাজা খাবার, ফাস্ট ফুড এবং প্যাকেটজাত মিষ্টি, ক্যালোরি-ঘন হয়। এর মানে হলো, শিশুরা অল্প পরিমাণে খেলেই প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি গ্রহণ করতে পারে। এই খাবারগুলো প্রায়শই স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা ট্রান্স ফ্যাট দিয়ে তৈরি করা হয়, যা শরীরে জমা হয় এবং অস্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

২. অতিরিক্ত চিনি এবং মিষ্টি পানীয়

চিনিযুক্ত পানীয়, ফ্লেভারযুক্ত দই, ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল এবং প্যাকেটজাত মিষ্টিতে প্রচুর পরিমাণে অতিরিক্ত চিনি থাকে। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় ও কমিয়ে দেয়, যার ফলে খাওয়ার পরপরই ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং আরও খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে। সময়ের সাথে সাথে, এই চক্রটি অতিরিক্ত খাওয়া এবং শরীরে চর্বি জমাতে উৎসাহিত করে।

৩. উচ্চ লবণাক্ততা

প্রক্রিয়াজাত খাবার, স্ন্যাকস এবং সসে প্রায়শই শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ থাকে। অতিরিক্ত লবণ বিপাক ক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং শিশুদের শরীরে জল জমা ও উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। এটি জিহ্বার স্বাদগ্রন্থিকে লবণাক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহী করে তোলে, ফলে স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়।

৪. পুষ্টি ও ফাইবার কম

তাজা ফল, শাকসবজি এবং শস্যদানার মতো নয়, প্রক্রিয়াজাত খাবারে সাধারণত ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ কম থাকে। ফাইবার হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং শিশুদের দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এটি ছাড়া, শিশুরা বেশি পরিমাণে খাবার খায় বা ঘন ঘন নাস্তা করে, যার ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হয়।

৫. অতিরিক্ত খাওয়াকে উৎসাহিত করে

প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু করে তৈরি করা হয়, যেগুলোর স্বাদ ও গঠন এতটাই আকর্ষণীয় যে তা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। উজ্জ্বল মোড়ক, কার্টুন চরিত্র এবং বিশেষভাবে শিশুদের লক্ষ্য করে তৈরি বিজ্ঞাপন এগুলোর আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তোলে। এটি কেবল ঘন ঘন খাবার খাওয়ার প্রবণতাই বাড়ায় না, বরং পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার বেশি পছন্দ করার অভ্যাসও তৈরি করে।

শিশুদের ওজন বৃদ্ধিতে স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস কীভাবে ভূমিকা রাখে?

ট্যাবলেট ও স্মার্টফোন থেকে শুরু করে কম্পিউটার ও টিভি পর্যন্ত, স্ক্রিন এখন প্রতিটি শিশুর জীবনের একটি অংশ। প্রযুক্তির সাথে বাস্তব সুবিধাও আসে; এটি শেখার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে এবং বিনোদন দিতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সাথে ওজন বৃদ্ধির একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এটি কেবল স্থিরভাবে বসে থাকার কারণে ঘটে না, বরং এর সাথে জড়িত অভ্যাস এবং আচরণের কারণেও ঘটে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. শারীরিক কার্যকলাপ হ্রাস

শিশুরা যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুষ্ঠান দেখে বা গেম খেলে, তখন তারা সক্রিয় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয়। দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা এমনকি সাধারণ বাইরের খেলার মতো কার্যকলাপ শক্তি খরচ করতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে অপরিহার্য। এগুলোর পরিবর্তে নিষ্ক্রিয়ভাবে স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার অর্থ হলো কম ক্যালোরি খরচ হওয়া, যা শক্তির ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে এবং ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

২. উদ্দেশ্যহীনভাবে হালকা খাবার খাওয়া

স্ক্রিন এবং খাবার খাওয়া প্রায়শই একে অপরের পরিপূরক। শিশুরা টেলিভিশন দেখার সময় বা ফোনে স্ক্রল করার সময় চিপস, মিষ্টি বা ফাস্ট ফুড খেয়ে ফেলতে পারে, এবং তারা কতটা খাচ্ছে সেদিকে প্রায়শই খেয়াল রাখে না। এর উপর, বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা অনলাইন ভিডিওতে ঘন ঘন দেখানো খাবারের বিজ্ঞাপনগুলো মিষ্টি ও নোনতা খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে শিশুরা অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়ে।

৩. ঘুমের ধরণে ব্যাঘাত

গভীর রাত পর্যন্ত স্ক্রিন ব্যবহার করলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ডিভাইস থেকে নির্গত উজ্জ্বল আলো মেলাটোনিন নামক হরমোনের নিঃসরণকে বিলম্বিত করে, যা শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। অপর্যাপ্ত বা কম ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে প্রভাবিত করে, ফলে পরের দিন ক্ষুধা এবং উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত খাওয়ার এই চক্র স্থূলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৪. খাদ্য বিপণনের সাথে পরিচিতি

খাদ্য সংস্থাগুলোর জন্য শিশুরা একটি প্রধান লক্ষ্যবস্তু। টেলিভিশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে ফাস্ট ফুড, চিনিযুক্ত পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের বিজ্ঞাপন খুবই সাধারণ। এই বিজ্ঞাপনগুলোর ক্রমাগত সংস্পর্শ শিশুদের খাদ্যাভ্যাসকে প্রভাবিত করে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারকে স্বাভাবিক করে তোলে, যার ফলে তারা নিয়মিত এই খাবারগুলো চাইতে বা বেছে নিতে বেশি আগ্রহী হয়।

৫. অলস জীবনযাপনের অভ্যাস গঠন

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদী আচরণকেও প্রভাবিত করে। শিশুরা যখন তাদের অবসর সময় স্ক্রিনের সামনে বসে কাটাতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, তখন তাদের সক্রিয় শখগুলো গুরুত্ব হারায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথেও অলস জীবনযাপনের প্রতি এই ঝোঁক বজায় থাকে, যা ক্যালোরি গ্রহণ ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাকে কঠিন করে তোলে এবং শৈশব ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয় সময়েই স্থূলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

এইভাবে, স্ক্রিনের প্রতি আসক্তি শিশুদের শুধু চুপচাপ বসিয়ে রাখার চেয়েও বেশি কিছু করে। এটি তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে, ঘুমের উপর প্রভাব ফেলে এবং পছন্দ তৈরি করে, যা সব মিলিয়ে অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়।

আর কোন কোন কারণ শৈশবের স্থূলতার জন্য দায়ী হতে পারে?

খাদ্যাভ্যাস এবং স্ক্রিন ব্যবহারের বাইরেও, একটি শিশুর জীবনের আরও বেশ কিছু দিক—যেমন তার শারীরিক কার্যকলাপ থেকে শুরু করে পারিবারিক ইতিহাস পর্যন্ত—স্থূলতার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এগুলো হলো:

শারীরিক কার্যকলাপের অভাব

স্ক্রিন টাইমের বাইরেও, আজকাল অনেক শিশুর বাইরে খেলাধুলা ও ব্যায়াম করার সুযোগ কমে গেছে। স্কুলের ব্যস্ত সময়সূচী, বাড়ির কাজ, খেলার মাঠের সীমিত জায়গা এবং কিছু এলাকায় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে শিশুরা ঘরের ভেতরে বেশি সময় কাটাতে পারে। এতে তাদের শক্তি খরচ কমে যায় এবং ওজন বৃদ্ধি পায়।

বাড়িতে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

একটি শিশুর খাদ্যাভ্যাস গঠনে পারিবারিক খাদ্যাভ্যাসের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া, বাইরের খাবারের উপর নির্ভর করা, ঘন ঘন চিনিযুক্ত পানীয় পান করা, বা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া—এগুলো সবই অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারে। বাড়িতে পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার বেশি সহজলভ্য হলে, শিশুদের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

জেনেটিক্স এবং পারিবারিক ইতিহাস

যেসব শিশুর বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়রা অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগছেন, তাদেরও একই সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকতে পারে। জিনগত কারণ শরীরে চর্বি জমার প্রক্রিয়া, বিপাক ক্রিয়া এবং ক্ষুধাকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও শুধুমাত্র জিন স্থূলতার কারণ নয়, তবে যেসব পরিবেশে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং অলস জীবনযাপন প্রচলিত, সেখানে জিন কিছু শিশুকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

ঘুমের ধরণ

স্ক্রিন-সম্পর্কিত ঘুমের সমস্যা ছাড়াও, অনিয়মিত ঘুম এবং সার্বিকভাবে অপর্যাপ্ত ঘুম একটি শিশুর ওজনকে প্রভাবিত করতে পারে। শিশুরা যখন পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না, তখন তাদের শরীর ক্ষুধার সংকেত দেওয়া হরমোন বেশি এবং পেট ভরা থাকার সংকেত দেওয়া হরমোন কম উৎপাদন করে, যার ফলে তাদের ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়।

মানসিক চাপ এবং মানসিক সুস্থতা

স্কুলের চাপ, পারিবারিক পরিবর্তন বা সামাজিক প্রতিকূলতার কারণে শিশুরাও মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়। কিছু শিশু কঠিন আবেগ সামলাতে খাওয়ার আশ্রয় নেয়, বিশেষ করে এমন সব আরামদায়ক খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে যেগুলোতে প্রায়শই চিনি ও চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। সময়ের সাথে সাথে আবেগতাড়িত হয়ে খাওয়ার এই অভ্যাসটি একটি রীতিতে পরিণত হতে পারে, যা ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

শৈশবের স্থূলতা প্রতিরোধে সহায়ক কিছু পরামর্শ

শিশুদের স্থূলতা প্রতিরোধের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন বা নিখুঁত অভ্যাসের প্রয়োজন নেই। এর জন্য প্রয়োজন ছোট ছোট ও টেকসই কিছু পরিবর্তন, যা আপনার পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের সাথে মানিয়ে যায়। এখানে কিছু বাস্তবসম্মত কৌশল দেওয়া হলো যা সত্যিই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

১. ঘরে রান্না করা খাবারকে অগ্রাধিকার দিন

বাড়িতে রান্না করলে উপকরণ এবং খাবারের পরিমাণ আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটা খুব জটিল হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি সাধারণ খাবারই প্রায়শই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর হয়। সম্ভব হলে খাবার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে শিশুদের যুক্ত করুন। কোনো কিছু তৈরিতে সাহায্য করলে তারা নতুন খাবার চেখে দেখতে বেশি আগ্রহী হয় এবং এটি তাদের মূল্যবান জীবন দক্ষতাও শেখায়।

২. স্বাস্থ্যকর নাস্তা হাতের কাছে রাখুন

আপনার রান্নাঘরে সহজে হাতের নাগালে পাওয়া যায় এমন পুষ্টিকর খাবার রাখুন: তাজা ফল, হুমুস দিয়ে কাটা সবজি, দই, বাদাম বা হোল-গ্রেইন ক্র্যাকার্স। স্বাস্থ্যকর খাবার চোখের সামনে ও হাতের কাছে থাকলে, শিশুরা সেগুলোই বেশি খেতে চায়। মুখরোচক খাবার ও প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস প্রতিদিনের প্রধান খাবার না বানিয়ে, মাঝে মাঝে উপভোগের জন্য রাখুন।

৩. স্ক্রিন ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করুন

স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনার পরিবারের জন্য উপযুক্ত সুস্পষ্ট সীমা নির্ধারণ করুন। আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুদের জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম নয়। স্ক্রিন-মুক্ত এলাকা তৈরি করুন, বিশেষ করে খাওয়ার সময় এবং ঘুমানোর আগে। এই সীমাগুলো ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করতে প্রয়োজনে টাইমার বা প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করুন।

৪. প্রতিদিন সক্রিয় খেলাধুলায় উৎসাহিত করুন

শিশুদের প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপের প্রয়োজন, কিন্তু তা একবারে করার দরকার নেই। এটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন, যেমন স্কুলের পরে সাইকেল চালানো, রাতের খাবারের আগে নাচের আসর, বা খাওয়ার পরে পরিবারের সাথে হাঁটতে যাওয়া। ব্যায়ামের চেয়ে মজাদার কার্যকলাপের উপর মনোযোগ দিন। শিশুদের তাদের পছন্দের কার্যকলাপ বেছে নিতে দিন, সেটা খেলাধুলা, নাচ, সাঁতার বা শুধু পার্কে খেলাই হোক না কেন।

৫. একটি নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করুন

সপ্তাহান্তেও ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার একটি নিয়মিত সময় নির্ধারণ করুন। একসাথে বই পড়া, গোসল করা বা হালকা গান শোনার মতো শান্তিদায়ক কিছু অভ্যাস ঘুমের আগে মনকে শান্ত করার ইঙ্গিত দেয়। ঘুমের মান উন্নত করতে শোবার ঘর ঠান্ডা, অন্ধকার এবং স্ক্রিনমুক্ত রাখুন।

৬. পরিবার হিসেবে একসাথে খাওয়া

নিয়মিত পারিবারিক খাবার পারস্পরিক সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি করে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। খাওয়ার সময় টিভি বন্ধ রাখুন এবং ডিভাইসগুলো দূরে সরিয়ে রাখুন, যাতে সবাই খাবার ও আলাপচারিতায় মনোযোগ দিতে পারে। যেসব শিশু পরিবারের সাথে খায়, তাদের পুষ্টিগুণ ভালো থাকে এবং খাবারের সাথে তাদের সম্পর্কও স্বাস্থ্যকর হয়।

৭. পরিপূর্ণতার পরিবর্তে অগ্রগতির উপর মনোযোগ দিন।

রাতারাতি সবকিছু পুরোপুরি পাল্টে ফেলার লক্ষ্য রাখবেন না। শুরু করার জন্য এক বা দুটি পরিবর্তন বেছে নিন এবং সেখান থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান। ছোট ছোট সাফল্য উদযাপন করুন, যেমন নতুন কোনো সবজি খাওয়া বা স্ক্রিনের সামনে সময় কাটানোর পরিবর্তে বাইরে খেলাধুলা করা। যদি কোনো দিন আপনার খাদ্যাভ্যাস ততটা স্বাস্থ্যকর না হয়, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। সময়ের সাথে সাথে আপনার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর সামগ্রিক ধরনটাই আসল।

৮. আপনি যেমন আচরণ দেখতে চান, তেমন আচরণ নিজেই করে দেখান।

আমরা যা বলি তার চেয়ে আমরা যা করি তা থেকে শিশুরা বেশি শেখে। যদি তারা দেখে যে আপনি শারীরিক কার্যকলাপ উপভোগ করছেন, পুষ্টিকর খাবার বেছে নিচ্ছেন এবং দায়িত্বের সাথে স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাহলে তাদের নিজেদেরও এই অভ্যাসগুলো গ্রহণ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। স্বাস্থ্যকে এমন একটি পারিবারিক মূল্যবোধে পরিণত করুন, যা শুধু সন্তানেরই পালন করার বিষয় নয়।

৯. ইতিবাচক থাকুন এবং খাবার নিয়ে লজ্জা দেওয়া পরিহার করুন।

খাবারকে কখনো পুরস্কার বা শাস্তি হিসেবে ব্যবহার করবেন না এবং খাবারকে 'ভালো' বা 'খারাপ' বলে চিহ্নিত করা থেকে বিরত থাকুন। এটি খাওয়ার ব্যাপারে অস্বাস্থ্যকর ধারণা তৈরি করতে পারে। এর পরিবর্তে, খাবার আমাদের শরীরকে কীভাবে সাহায্য করে, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করুন। কিছু খাবার আমাদের খেলার শক্তি জোগায়, কিছু আমাদের শক্তিশালী হতে সাহায্য করে, এবং কিছু শুধু স্বাদ উপভোগ করার জন্য। আলোচনাটি ইতিবাচক এবং লজ্জামুক্ত রাখুন।

আজই পরামর্শ করুন

শৈশবের স্থূলতা নিয়ে কথা বলা সবসময় সহজ নয়, এর মোকাবিলা করা তো আরও কঠিন। এর পেছনের কারণগুলো বোঝা এবং এটা জানা জরুরি যে, ছোট ছোট ও ধীরে ধীরে করা পরিবর্তনও আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের বড় উন্নতি ঘটাতে পারে। আপনি যদি আপনার সন্তানের ওজন নিয়ে চিন্তিত হন অথবা একা এই পরিবর্তনগুলো আনার ব্যাপারে অনিশ্চিত বোধ করেন, তবে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বললে আপনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেতে পারেন। বিস্তারিত মূল্যায়ন এবং একটি বাস্তবসম্মত ও পরিবার-কেন্দ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য, আমরা আপনাকে ম্যাক্স হাসপাতালে একজন পেডিয়াট্রিক ডায়েটিশিয়ান বা পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রিনোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করার জন্য উৎসাহিত করছি। তারা আপনাকে একটি শিশুর নির্দিষ্ট পুষ্টির চাহিদা বুঝতে, কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে এবং আপনার সন্তান ও পরিবারের জীবনযাত্রার জন্য উপযোগী একটি ব্যক্তিগত পরিকল্পনা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

শৈশবের স্থূলতা কি নিরাময়যোগ্য, নাকি একবার দেখা দিলে তা স্থায়ী হয়ে যায়?

অবশ্যই, শৈশবের স্থূলতা নিরাময় করা সম্ভব। শিশুদের শরীর তখনও বাড়তে ও বিকশিত হতে থাকে, যার ফলে তারা জীবনযাত্রার ইতিবাচক পরিবর্তনে বিশেষভাবে সাড়া দেয়। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখলে অনেক শিশুই একটি স্বাস্থ্যকর ওজন অর্জন করতে এবং তা ধরে রাখতে পারে। মূল বিষয় হলো, এটিকে কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে না দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদী জীবনযাত্রার পরিবর্তন হিসেবে গ্রহণ করা।

আমার কি সন্তানের সাথে তার ওজন নিয়ে কথা বলা উচিত, নাকি এতে তার আত্মসম্মানে আঘাত লাগবে?

এই বিষয়টি বেশ জটিল এবং এটি আপনার সন্তানের বয়স ও সংবেদনশীলতার উপর নির্ভর করে। ওজন বা বাহ্যিক রূপ নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে, শক্তিশালী বোধ করা, কর্মশক্তি থাকা এবং শরীরের যত্ন নেওয়া নিয়ে কথা বলুন। স্বাস্থ্যকর পরিবর্তনগুলোকে এমনভাবে তুলে ধরুন যেন তা পুরো পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, এমন কিছু নয় যা শুধু আপনার সন্তানকেই 'ঠিক' করতে হবে। যদি আপনার সন্তান তার শরীর নিয়ে কোনো উদ্বেগের কথা জানায়, তবে কোনো রকম বিচার না করে তার কথা শুনুন এবং বাহ্যিক রূপের চেয়ে স্বাস্থ্যের উপর বেশি গুরুত্ব দিন।

শিশুদের স্থূলতা হওয়ার ঝুঁকি কি কোনো নির্দিষ্ট বয়সে বেশি থাকে?

হ্যাঁ, কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল আছে। শৈশবকাল (২ থেকে ৬ বছর বয়স) এবং কৈশোরে পদার্পণের সময় (১০ থেকে ১৪ বছর বয়স) শিশুরা স্থূলতায় আক্রান্ত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। এই সময়গুলোতে শিশুদের দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে, তাই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমার সন্তান খেতে চায় না এবং বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকর খাবারই খেতে চায় না। আমি কী করতে পারি?

খাবার নিয়ে বাছবিচার করা একটি সাধারণ এবং হতাশাজনক সমস্যা। কোনো চাপ না দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প দিতে থাকুন। একটি নতুন খাবার গ্রহণ করার আগে শিশুর ১০ থেকে ১৫ বার সেটির সংস্পর্শে আসার প্রয়োজন হতে পারে। তাদের দেখতে দিন যে আপনিও সেই খাবারগুলো উপভোগ করছেন, রান্নায় তাদের যুক্ত করুন এবং খাওয়ার সময়টিকে চাপমুক্ত রাখুন। পরিবারের জন্য একটি মাত্র খাবার তৈরি করে একা সব রান্না করার অভ্যাস ত্যাগ করুন। যদি এই বাছবিচার গুরুতর হয় বা শিশুর বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে, তবে আপনার শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন।

আমার সন্তানের খাদ্যতালিকা থেকে কিছু নির্দিষ্ট খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া কি ঠিক হবে?

সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রায়শই হিতে বিপরীত হয়। যখন কোনো খাবার পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়ে যায়, তখন তা আরও বেশি লোভনীয় হয়ে ওঠে এবং সুযোগ পেলে শিশুরা তা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলতে পারে। এর পরিবর্তে, পরিমিতিবোধ শেখান। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে সঠিক পরিমাণে ও নির্দিষ্ট সময়ে পছন্দের খাবার রাখুন। এটি শিশুদের সব ধরনের খাবারের সাথে একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

আমার সন্তান বর্তমানে অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী হলেও কি সে খেলাধুলা বা শারীরিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে?

অবশ্যই! শারীরিক কার্যকলাপ সব আকারের শিশুদের জন্যই উপকারী এবং এটি আসলে অতিরিক্ত ওজনের শিশুদের জন্য অন্যতম সেরা একটি কাজ। এমন কার্যকলাপ বেছে নিন যা আপনার শিশু উপভোগ করে এবং যা তার জন্য আরামদায়ক। অনেক শিশু সাঁতার, সাইকেল চালানো, নাচ বা মার্শাল আর্টে সাফল্য খুঁজে পায়। লক্ষ্য হলো নড়াচড়া এবং আনন্দ, পারদর্শিতা বা প্রতিযোগিতা নয়।

আমার সন্তানের কি বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটা ঠিক হয়ে যাবে, নাকি আমার এখনই হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন?

যদিও কিছু শিশু লম্বা হওয়ার সাথে সাথে রোগা হয়ে যায়, তবে এটি নিশ্চিত নয়। অপেক্ষা করা এবং আশা করার ফলে প্রায়শই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো আরও দৃঢ় হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। মৃদু ও ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে দ্রুত হস্তক্ষেপ করাই প্রায় সবসময় উত্তম পন্থা। আপনি এখন যে অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে সাহায্য করবেন, তা তাদের সারাজীবনের জন্য উপকারী হবে।

পরিবর্তন আনলে কত দ্রুত ফলাফল আশা করা উচিত?

ধৈর্য ধরুন। শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর ওজন নিয়ন্ত্রণ একটি ধীর প্রক্রিয়া। আপনি হয়তো সঙ্গে সঙ্গে ওজন মাপার যন্ত্রে বড় কোনো পরিবর্তন দেখতে পাবেন না, এবং তাতে কোনো সমস্যা নেই। ওজন মাপার যন্ত্রের বাইরের ছোট ছোট সাফল্যের দিকে মনোযোগ দিন, যেমন—শক্তি বৃদ্ধি, ভালো ঘুম, মেজাজের উন্নতি বা শারীরিক সহনশীলতা বৃদ্ধি। টেকসই পরিবর্তনের জন্য সময় লাগে এবং দ্রুত ফল প্রায়শই স্থায়ী হয় না।