Delhi/NCR:

MOHALI:

Dehradun:

BATHINDA:

Mumbai:

NAGPUR:

LUCKNOW:

BHUBANESWAR:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজম কী: লক্ষণ ও জটিলতা

By Dr. Parampreet Kaur Ghuman in Infertility & IVF , Obstetrics And Gynaecology , Robotic Surgery

Apr 15 , 2026

গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজম ধরা পড়লে তা আপনার গর্ভকালীন যাত্রায় উদ্বেগের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এই অবস্থাটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণভাবে, আপনার গর্ভস্থ শিশুর জন্য কী অর্থ বহন করে, তা নিয়ে আপনি চিন্তিত হতে পারেন। এই রোগ নির্ণয় অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়, কিন্তু এটা জানা জরুরি যে, গর্ভাবস্থায় সঠিক যত্ন নিলে এটি খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আপনার একটি সুস্থ গর্ভাবস্থা হবেই।

গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজম কী?

হাইপোথাইরয়েডিজম এমন একটি অবস্থা যেখানে আপনার থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে না। এই হরমোনটি আপনার শরীরের বিপাক ক্রিয়া, যার মধ্যে শক্তি ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য। গর্ভাবস্থায় আপনার থাইরয়েডের উপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং এটি যদি সেই চাপ সামলাতে না পারে, তবে তা আপনার এবং আপনার শিশুর উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ হতে পারে।

থাইরয়েড হরমোনের গুরুত্ব

আপনার শিশুর বিকাশে, বিশেষ করে তার মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য থাইরয়েড হরমোন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে আপনার শিশু সম্পূর্ণরূপে আপনার থাইরয়েড হরমোনের সরবরাহের উপর নির্ভরশীল থাকে, কারণ তার নিজের থাইরয়েড গ্রন্থি তখনও বিকশিত হয় না। এই কারণেই সঠিক রোগ নির্ণয় এবং ব্যবস্থাপনা আপনার প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যের একটি মূল অংশ।

কারা ঝুঁকিতে আছেন?

যদিও যে কেউই এই অবস্থায় আক্রান্ত হতে পারেন, কিছু কারণ আপনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

  • নিজের বা পরিবারের থাইরয়েড রোগের ইতিহাস আছে।
  • টাইপ ১ ডায়াবেটিসের মতো কোনো অটোইমিউন রোগ আছে।
  • পূর্বে হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা করানো হয়েছে।
  • ঘাড়ে আঘাত অথবা থাইরয়েড সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার হয়েছে।

লক্ষণ ও রোগ নির্ণয়

গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণগুলো সূক্ষ্ম হতে পারে এবং প্রায়শই গর্ভাবস্থার সাধারণ উপসর্গগুলোর মতো হয়, যার ফলে এটি নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই কারণেই নিয়মিত স্ক্রিনিং গর্ভাবস্থার যত্নের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যে লক্ষণগুলো খেয়াল রাখতে হবে

যেহেতু অনেক লক্ষণ গর্ভাবস্থার সাধারণ অস্বস্তির সাথে মিলে যায়, তাই সেগুলো সহজে নজরে নাও আসতে পারে। যেসব লক্ষণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী বলে মনে হয়, সেগুলোর প্রতি খেয়াল রাখুন।

  • অতিরিক্ত ক্লান্তি: ক্লান্তি একটি সাধারণ উপসর্গ হলেও, তীব্র ও অসহনীয় অবসাদ থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
  • ওজন বৃদ্ধি: গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার পরেও যদি কোনো কারণ ছাড়াই বা অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যায়, তবে তা একটি লক্ষণ হতে পারে।
  • ঠান্ডা লাগা: আপনার আশেপাশের অন্যান্য মানুষের তুলনায় আপনার প্রায়শই বেশি ঠান্ডা লাগতে পারে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য: এটি গর্ভাবস্থার একটি সাধারণ জটিলতা, কিন্তু এটি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হলে একটি উপসর্গ হতে পারে।

এটি কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা হয়, যেখানে আপনার থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH)-এর মাত্রা পরিমাপ করা হয়। TSH-এর উচ্চ মাত্রা নির্দেশ করে যে আপনার থাইরয়েড গ্রন্থিটি নিষ্ক্রিয় এবং পর্যাপ্ত হরমোন উৎপাদনের জন্য এটিকে আরও বেশি উদ্দীপিত করা প্রয়োজন। সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য আজকাল অনেক ডাক্তার গর্ভাবস্থার শুরুতেই থাইরয়েডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে থাকেন।

হাইপোথাইরয়েডিজম ব্যবস্থাপনা: পরিচর্যার মূল ভিত্তি

গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজম শনাক্ত হলে, সাধারণত একটি নিরাপদ ও বহুল ব্যবহৃত কৃত্রিম থাইরয়েড হরমোন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়। এই চিকিৎসা আপনার স্বাস্থ্য ও শিশুর বৃদ্ধিকে সহায়তা করার জন্য হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।

চিকিৎসা কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই অবস্থাটি নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আপনার জন্য নির্ধারিত হরমোন রিপ্লেসমেন্ট ঔষধটি নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা। এই ঔষধটি আপনার থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক হরমোন সরবরাহ করার মাধ্যমে কাজ করে। এটি আপনার শিশুর কোনো ক্ষতি করে না; বরং এটি মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে।

পর্যবেক্ষণ এবং ডোজ সমন্বয়

গর্ভাবস্থায় আপনার ডাক্তার নিয়মিত, প্রায়শই প্রতি চার থেকে ছয় সপ্তাহ অন্তর, আপনার থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH)-এর মাত্রা পরীক্ষা করবেন। প্রতিটি ত্রৈমাসিকে আপনার শরীরের চাহিদা পরিবর্তনের সাথে সাথে এর ডোজও সমন্বয় করা হতে পারে।

আপনার ঔষধ কীভাবে এবং কখন সেবন করবেন

সাধারণত খালি পেটে, বিশেষত সকালে, খাবার বা প্রসবপূর্ব ভিটামিন গ্রহণের প্রায় ৩০-৬০ মিনিট আগে থাইরয়েড হরমোন রিপ্লেসমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে আপনার শরীর এটি সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে, কারণ কিছু নির্দিষ্ট খাবার বা সাপ্লিমেন্ট এর কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

খাদ্যতালিকাগত বিবেচনা

যদিও ওষুধই প্রধান চিকিৎসা, খাদ্যাভ্যাসও একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

  • আয়োডিন গ্রহণ: আপনার গর্ভাবস্থার খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন, যা থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। বেশিরভাগ প্রসবপূর্ব সাপ্লিমেন্টেই এর সঠিক পরিমাণ থাকে।
  • সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ব্যবধান: ক্যালসিয়াম এবং আয়রন সাপ্লিমেন্ট শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আপনার থাইরয়েডের ওষুধ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর এগুলো গ্রহণ করা সবচেয়ে ভালো।

অচিকিৎসিত হাইপোথাইরয়েডিজমের সম্ভাব্য জটিলতা

অচিকিৎসিত হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই কারণেই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত যত্ন এবং আপনার স্বাস্থ্যসেবা দলের সাথে যোগাযোগ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • প্রি-এক্লাম্পসিয়া: এই অবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উচ্চ রক্তচাপ এবং এটি মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
  • অ্যানিমিয়া: আয়রনের অভাবজনিত একটি গুরুতর রূপ।
  • গর্ভপাত বা অকাল প্রসব: চিকিৎসা না করালে হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে এই জটিলতাগুলোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • বিকাশগত সমস্যা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মায়ের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের অভাব শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এর ফলে আইকিউ কমে যেতে পারে।

উপসংহার

গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজম নির্ণয় আপনার যাত্রার একটি অপ্রত্যাশিত অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য অবস্থা যার একটি সুস্পষ্ট সমাধান পথ রয়েছে। আপনার ডাক্তারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে, নির্ধারিত নিয়মে ওষুধ সেবন করে এবং নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত থেকে, আপনি নিজের এবং আপনার শিশুর জন্য সর্বোত্তম প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছেন। এই জ্ঞানকে গ্রহণ করুন এবং নিশ্চিন্ত থাকুন যে আপনার একটি সুস্থ গর্ভাবস্থা হবেই।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

গর্ভাবস্থায় আমার থাইরয়েডের ওষুধ চালিয়ে যাওয়া কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, আপনার থাইরয়েডের ওষুধ চালিয়ে যাওয়া শুধু নিরাপদই নয়, অপরিহার্যও। ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু এটি আপনার শিশুর বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমার থাইরয়েডের মাত্রা কত ঘন ঘন পরীক্ষা করা হবে?

আপনার গর্ভকালীন সময়ে আপনার ডাক্তার প্রতি চার থেকে ছয় সপ্তাহ অন্তর আপনার টিএসএইচ (TSH) মাত্রা পরীক্ষা করবেন, যাতে আপনার ওষুধের মাত্রা সঠিক থাকে।

আমার শিশু কি হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ে জন্মাবে?

ঝুঁকি কম, এবং যেসব মায়ের হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাদের বেশিরভাগ শিশুর থাইরয়েডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকে। জন্মের সময় সব শিশুর জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়।

আমি কি আমার থাইরয়েডের ওষুধের সাথে প্রসবপূর্ব ভিটামিন খেতে পারি?

না, সাধারণত আপনার থাইরয়েডের ওষুধ এবং প্রসবপূর্ব ভিটামিন গ্রহণের মধ্যে কমপক্ষে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়, বিশেষ করে যদি তাতে আয়রন বা ক্যালসিয়াম থাকে, কারণ এগুলো শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

পারিবারিক থাইরয়েড সমস্যার ইতিহাস থাকলে কি আমার ঝুঁকি বাড়ে?

হ্যাঁ, পরিবারে থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজম হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আপনার ডাক্তারকে বিষয়টি জানানো উচিত, যাতে তিনি আপনাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেও কি আমাকে ওষুধ খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে?

সন্তান প্রসবের পর আপনার ডাক্তার আপনার ওষুধের মাত্রা পুনরায় মূল্যায়ন করবেন। অনেক মহিলাই গর্ভাবস্থার আগের মাত্রায় ফিরে যেতে পারেন বা এমনকি ওষুধ পুরোপুরি বন্ধও করে দিতে পারেন, কিন্তু এটি শুধুমাত্র ডাক্তারের তত্ত্বাবধানেই করা উচিত।

পূর্ববর্তী একটি সুস্থ গর্ভাবস্থার পরে কি হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে?

হ্যাঁ, এটা সম্ভব। গর্ভাবস্থা নিজেই থাইরয়েডের সমস্যার কারণ হতে পারে। পরবর্তী গর্ভাবস্থাগুলোতেও আপনার ডাক্তার আপনার প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখবেন।

Related Blogs

Blogs by Doctor