Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

বিয়ে ও গর্ভাবস্থার আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত?

By Dr. Satyaranjan Das in Hematology Oncology

Apr 10 , 2026 | 5 min read

পরিবার পরিকল্পনা একটি বিশেষ এবং জীবন পরিবর্তনকারী অভিজ্ঞতা, তবে এর সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও আসে। এই প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো, স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যেন তাদের ভবিষ্যৎ সন্তানের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তা নিশ্চিত করা। এই ঝুঁকিগুলোর মধ্যে থ্যালাসেমিয়া একটি গুরুতর রোগ, যা শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুরো পরিবারের মঙ্গলকে প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণেই বিয়ে এবং গর্ভাবস্থার আগে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিংকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ যা হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই অজান্তেই থ্যালাসেমিয়া জিনের বাহক হতে পারেন এবং পরীক্ষা ছাড়া, এই রোগে আক্রান্ত সন্তান হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে তারা হয়তো জানতে পারেন না।

বিবাহপূর্ব স্ক্রিনিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

থ্যালাসেমিয়া বাবা-মা উভয়ের কাছ থেকেই বংশগতভাবে আসে, অর্থাৎ যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়েই এই জিনের বাহক হন, তবে তাদের সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া মেজর নামক এই রোগের একটি গুরুতর রূপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে, অনেকেই জানেন না যে তারা এই জিনের বাহক, কারণ তাদের মধ্যে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। বিয়ে বা গর্ভধারণের আগে সঠিক পরীক্ষা না করানোর ফলে দম্পতিরা অজান্তেই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সন্তান হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

বিবাহপূর্ব স্ক্রিনিং দম্পতিদের তাদের জিনগত অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে, যা তাদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। প্রাথমিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে, স্বামী-স্ত্রী উভয়েই এই রোগের বাহক কিনা, যা তাদের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সামনের সম্ভাব্য প্রতিকূলতার জন্য তাদের প্রস্তুত করতে পারে।

পরিবারগুলির উপর মানসিক প্রভাব

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার মতো কোনো জিনগত রোগ আছে, এই কথা জানাটা অনেক বাবা-মায়ের জন্য একটি বড় মানসিক আঘাত হতে পারে। এই উপলব্ধি তাদের মধ্যে অপরাধবোধ, বিভ্রান্তি এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের জন্ম দিতে পারে। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত একটি শিশুকে বড় করতে প্রায়শই নিরন্তর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যা বাবা-মায়ের জন্য বেশ কষ্টকর হতে পারে।

থ্যালাসেমিয়ার শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি বাবা-মায়ের ওপর মানসিক চাপও যথেষ্ট হতে পারে। ঘন ঘন হাসপাতালে যাওয়া, চিকিৎসা এবং সন্তানের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে উদ্বেগ , বিষণ্ণতা ও মানসিক অবসাদ দেখা দিতে পারে। এই অনুভূতিগুলো নতুন বাবা-মায়ের জন্য বিশেষভাবে কষ্টকর হতে পারে, যারা হয়তো একটি সুস্থ সন্তানের আশা করেছিলেন।

বিয়ে বা গর্ভধারণের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করিয়ে নিলে দম্পতিরা সন্তানের জন্মের পর এই রোগটি সম্পর্কে জানার মানসিক চাপ এড়াতে পারেন। আগেভাগে এই পরীক্ষা বাবা-মাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে এবং প্রত্যাশা ও আবেগ সামলানো সহজ করে তোলে।

আরও পড়ুন - বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস: রোগীর সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এক বিশ্বব্যাপী আহ্বান

থ্যালাসেমিয়ার আর্থিক বোঝা

থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত একটি শিশুকে লালন-পালন করার আর্থিক বোঝা প্রায়শই পরিবারগুলোর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়। থ্যালাসেমিয়ার জন্য রক্ত সঞ্চালন এবং ঔষধপত্রসহ নিরন্তর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যা স্বাস্থ্যসেবার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। সময়ের সাথে সাথে অনেক পরিবারের জন্য এই আর্থিক বোঝা একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়।

চিকিৎসার প্রত্যক্ষ খরচের পাশাপাশি পরোক্ষ খরচ, যেমন সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য কাজ থেকে ছুটি নেওয়া বা বিশেষায়িত চিকিৎসার খরচ, পরিবারগুলোর ওপর একটি বড় আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিতে পারে। এই বোঝা প্রায়শই সন্তানের সারা জীবন ধরে থেকে যায়, যা বাবা-মাকে সেই অনুযায়ী তাদের আর্থিক অবস্থা সামঞ্জস্য করতে বাধ্য করে।

প্রাথমিক স্ক্রিনিং দম্পতিদের সম্ভাব্য আর্থিক অসুবিধার জন্য পরিকল্পনা করার সুযোগ করে দিতে পারে। ঝুঁকিগুলো আগে থেকে জানার ফলে তারা জেনেটিক কাউন্সেলিং বা আর্থিক পরিকল্পনার মতো বিকল্পগুলো বিবেচনা করতে পারেন, যা দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত একটি শিশুকে লালন-পালনের সাথে সম্পর্কিত খরচ সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি

থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও, অনেক দম্পতি এর ঝুঁকি অথবা বিয়ে ও গর্ভধারণের আগে পরীক্ষা করানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবগত নন। এই রোগ এবং পরীক্ষা করানোর উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে আরও বেশি দম্পতিকে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা যেতে পারে।

সচেতনতামূলক কর্মসূচিগুলো মানুষকে এটা বুঝতে সাহায্য করতে পারে যে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা একটি সহজ ও সহজলভ্য প্রক্রিয়া। এই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কারও থ্যালাসেমিয়ার জিন আছে কি না, যা তাদের সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। জনশিক্ষামূলক প্রচারণা আরও বেশি মানুষকে জিনগত পরীক্ষা করানোর কথা ভাবতে উৎসাহিত করতে পারে, বিশেষ করে বিয়ে এবং পরিবার শুরু করার মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে।

সচেতনতা বৃদ্ধি থ্যালাসেমিয়ার সাথে জড়িত কলঙ্ক এবং ভুল তথ্য কমাতেও সাহায্য করে। সম্প্রদায়কে শিক্ষিত করার মাধ্যমে, আমরা জিনগত রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারি।

জ্ঞানের মাধ্যমে দম্পতিদের ক্ষমতায়ন

থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিংয়ের অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য। দম্পতিরা যখন তাদের জিনগত অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন, তখন তারা তাদের সন্তানধারণের বিকল্পগুলো নিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি উভয় সঙ্গীই বাহক হন, তবে ভ্রূণে এই রোগটি বংশগতভাবে সঞ্চারিত হওয়া এড়ানোর জন্য তারা জিনগত পরীক্ষার পাশাপাশি ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ)-এর মতো বিকল্পগুলো বিবেচনা করতে পারেন।

যেসব দম্পতি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত নন, তাদের সন্তানদের মধ্যে এই রোগটি ছড়ানোর কোনো ঝুঁকি থাকে না, তাই তারা নিশ্চিন্তে এগিয়ে যেতে পারেন। তথ্য থাকলে বাবা-মায়েরা সমস্ত উপলব্ধ বিকল্প খতিয়ে দেখতে পারেন, যা তাদের নিজেদের পছন্দ সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন করে তোলে।

দম্পতিদের জন্যও জেনেটিক কাউন্সেলিং একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। একজন জেনেটিক কাউন্সেলর ঝুঁকি, বিকল্প এবং সম্ভাব্য ফলাফলগুলো ব্যাখ্যা করে পরিবারের জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে পারেন।

ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা

থ্যালাসেমিয়ার জন্য প্রাথমিক স্ক্রিনিং দম্পতিদের সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত চিকিৎসা খরচের পরিকল্পনা করা হোক বা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সন্তান হওয়ার ঝুঁকি কমায় এমন প্রজনন পদ্ধতি বেছে নেওয়া হোক, প্রাথমিক পরীক্ষা নিশ্চিত করে যে দম্পতিরা সামনের চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য প্রস্তুত।

বিয়ে বা গর্ভধারণের আগে তথ্য জানা থাকলে দম্পতিরা তাদের মূল্যবোধ ও অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা তাদের অনিশ্চয়তা এড়াতে এবং ভবিষ্যতের উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে সাহায্য করে।

উপসংহার

যেসব দম্পতি পরিবার শুরু করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য বিয়ে এবং গর্ভধারণের আগেই থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকিগুলো আগেভাগে শনাক্ত করার মাধ্যমে দম্পতিরা এই জিনগত রোগে আক্রান্ত একটি শিশুকে লালন-পালনের সাথে জড়িত মানসিক, আর্থিক এবং শারীরিক চাপ কমাতে পারেন।

থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দম্পতিদের তথ্য প্রদান করা হলে, তা তাঁদেরকে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে, যা একটি স্বাস্থ্যকর ও উন্নত ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। প্রাথমিক স্ক্রিনিং শুধুমাত্র একটি বংশগত রোগ প্রতিরোধের জন্যই নয়, বরং এটি বাবা-মায়েদের একটি উজ্জ্বলতর ও স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করারও একটি মাধ্যম।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

  • থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা কি সকলের জন্য বাধ্যতামূলক?

যেসব দম্পতির পরিবারে এই রোগের ইতিহাস রয়েছে অথবা যারা পরিবার শুরু করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি সম্ভাব্য জিনগত ঝুঁকি সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য প্রদান করে।

  • যদি স্বামী-স্ত্রী দুজনেই থ্যালাসেমিয়া জিনের বাহক হন, তাহলে আমার কী করা উচিত?

যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ই বাহক হন, তবে ঝুঁকিগুলো সামলাতে জেনেটিক কাউন্সেলিং আইভিএফ অথবা জেনেটিক পরীক্ষাসহ প্রসবপূর্ব পরীক্ষার মতো বিকল্পের পরামর্শ দিতে পারে।

  • বিয়ে বা গর্ভধারণের কতদিন আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করানো উচিত?

বিয়ের কয়েক মাস আগে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার সময় স্ক্রিনিং করিয়ে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে আপনি আপনার বিকল্পগুলো বিবেচনা করার এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকার সময় পান।

  • জেনেটিক কাউন্সেলিং-এ কী কী অন্তর্ভুক্ত থাকে?

জেনেটিক কাউন্সেলিং দম্পতিদের পরবর্তী প্রজন্মে থ্যালাসেমিয়ার মতো জিনগত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করে। একজন কাউন্সেলর তাদের প্রজনন সংক্রান্ত বিকল্পগুলো সম্পর্কে পথনির্দেশনা ও সহায়তা করতে পারেন।

  • যেকোনো বয়সে কি থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করা যায়?

হ্যাঁ, যেকোনো বয়সেই থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং করা যেতে পারে। তবে, বিয়ের আগে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার সময় পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া সবচেয়ে বেশি উপকারী, কারণ এটি পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।