To Book an Appointment
Call Us+91 926 888 0303This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.
রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি ও কম হলে: কখন উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?
By Dr R S Mishra in Internal Medicine
Jun 16 , 2026
Your Clap has been added.
Thanks for your consideration
Share
Share Link has been copied to the clipboard.
Here is the link https://max-health-care.online/blogs/bn/symptoms-of-high-and-low-blood-sugar
রক্তে শর্করার মাত্রা বা যেকোনো নির্দিষ্ট সময়ে রক্তে উপস্থিত গ্লুকোজের পরিমাণ, খাদ্য গ্রহণ, কার্যকলাপ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে সারাদিন ধরে ওঠানামা করে। একটি নির্দিষ্ট পরিসরকে স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়, কিন্তু মাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে বা খুব কমে গেলে লক্ষণীয় উপসর্গ দেখা দিতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। এই কারণে, কোনটি স্বাভাবিক এবং কখন কোনো পরিবর্তনে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, তা জানা জরুরি। এই ব্লগটিতে উচ্চ এবং নিম্ন রক্তে শর্করার মাত্রার মধ্যে পার্থক্য, লক্ষণীয় চিহ্নগুলো এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, তা আলোচনা করা হয়েছে।
রক্তে শর্করার মাত্রা বলতে কী বোঝায়?
রক্তে শর্করার মাত্রা বলতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে রক্তে উপস্থিত গ্লুকোজের পরিমাণকে বোঝায়। গ্লুকোজ হলো এক প্রকার শর্করা যা গ্রহণ করা খাবার, বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট থেকে আসে এবং এটি শরীরের কোষগুলোর জন্য শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। খাওয়ার পর গ্লুকোজ রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং ইনসুলিন নামক একটি হরমোন এটিকে কোষের ভেতরে নিয়ে যেতে সাহায্য করে, যেখানে এটি শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয় অথবা পরবর্তী ব্যবহারের জন্য সঞ্চিত থাকে।
শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও কলাগুলো যাতে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য শরীর রক্তে শর্করার মাত্রা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখে। এই ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে, রক্তে শর্করার মাত্রা হয় খুব বেড়ে যেতে পারে অথবা খুব কমে যেতে পারে, যার উভয়ই শরীরের অনুভূতি এবং কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
শরীর কতটা ভালোভাবে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করছে তা বোঝার জন্য, সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে, যেমন উপবাসের পর বা খাবার পর, রক্তে শর্করার মাত্রা পরিমাপ করা হয়।
রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রা (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) বলতে কী বোঝায়?
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া, যা হাইপারগ্লাইসেমিয়া নামেও পরিচিত, তখন ঘটে যখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার উপরে উঠে যায়। এটি সাধারণত তখন হয় যখন শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে না বা তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না, যার ফলে রক্তে গ্লুকোজ জমা হতে থাকে।
সাধারণত, খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা ১২৬ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি হলে অথবা খাবার গ্রহণের পর তা ১৮০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের উপরে উঠলে, রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বলে ধরা হয়। মাঝে মাঝে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে এর মাত্রা বেশি থাকলে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে এবং এর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণগুলো কী কী?
রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রা শরীরে বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর লক্ষণগুলো প্রায়শই ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। হাইপারগ্লাইসেমিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ঘন ঘন প্রস্রাব: শরীর প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে, যার ফলে ঘন ঘন শৌচাগারে যেতে হয়।
- অতিরিক্ত তৃষ্ণা: শরীর থেকে তরল কমে গেলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
- ক্লান্তি: কোষগুলো শক্তির জন্য গ্লুকোজ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না, যার ফলে ক্লান্তি দেখা দেয়।
- ঝাপসা দৃষ্টি: রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে তা চোখের লেন্সকে প্রভাবিত করতে পারে।
- ধীরে সেরে ওঠা ক্ষত: কাটা বা সংক্রমণ সারতে বেশি সময় লাগতে পারে।
- ব্যাখ্যাতীত ওজন হ্রাস: শরীর শক্তির জন্য চর্বি এবং পেশী ভাঙতে শুরু করতে পারে।
- মাথাব্যথা: রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
- মুখ ও ত্বকের শুষ্কতা: পানিশূন্যতার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
কখন রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?
রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে বা অল্প সময়ের মধ্যে হঠাৎ করে বেড়ে গেলে তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এটি বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ, যখন শরীর নিজে থেকে বা নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে এর মাত্রা কমাতে পারে না। নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রা বিপজ্জনক বলে বিবেচিত হতে পারে:
- যখন রিডিং খুব বেশি থাকে: ওষুধ বা নিয়মিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্ত্বেও রক্তে শর্করার মাত্রা ধারাবাহিকভাবে ২৫০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের উপরে থাকা।
- অসুস্থতা বা সংক্রমণের সময়: জ্বর, সংক্রমণ বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
- ইনসুলিন বা ঔষধ নিতে ভুলে গেলে: ডোজ বাদ দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
- যখন তীব্র পানিশূন্যতা দেখা দেয়: ক্রমাগত তরল ক্ষয় অবস্থার অবনতি ঘটাতে পারে এবং সার্বিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
- যদি কিটোন উপস্থিত থাকে: এটি নির্দেশ করে যে শরীর গ্লুকোজ সঠিকভাবে ব্যবহার করার পরিবর্তে চর্বি ভাঙছে।
- যখন উপসর্গগুলো গুরুতর হয়ে ওঠে: বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, বিভ্রান্তি, বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) বলতে কী বোঝায়?
রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া , যা হাইপোগ্লাইসেমিয়া নামেও পরিচিত, তখন ঘটে যখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক পরিসরের নিচে নেমে যায়। গ্লুকোজ হলো শরীরের কোষগুলোর শক্তির প্রধান উৎস, তাই এর হঠাৎ বা উল্লেখযোগ্য হ্রাস শরীর ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে নেমে গেলে অথবা খাবার পর তা অপ্রত্যাশিতভাবে কমে গেলে, রক্তে শর্করার পরিমাণ সাধারণত কম বলে ধরা হয়। এই ধরনের ঘটনা মৃদু হতে পারে এবং সহজেই তার প্রতিকার করা যায়, কিন্তু গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়ার দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার লক্ষণগুলো কী কী?
রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে কমে যেতে পারে এবং গ্লুকোজের মাত্রা কতটা কমে যায় তার উপর নির্ভর করে এর তীব্রতা হালকা থেকে গুরুতর পর্যন্ত হতে পারে। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
- কাঁপুনি বা কম্পন: টলমল বা অস্থির বোধ করা
- ঘাম: তাপ বা ব্যায়াম ছাড়া হঠাৎ অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।
- মাথা ঘোরা বা হালকা বোধ করা: জ্ঞান হারানো বা ভারসাম্যহীন বোধ করা
- বিভ্রান্তি বা মনোযোগ দিতে অসুবিধা: স্পষ্টভাবে চিন্তা করতে বা সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা।
- বিরক্তি বা মেজাজের পরিবর্তন: হঠাৎ উদ্বেগ বা হতাশার অনুভূতি
- দ্রুত হৃদস্পন্দন: বুক ধড়ফড় করা বা নাড়ির গতি বেড়ে যাওয়া।
- ক্ষুধা: খাওয়ার তীব্র বা আকস্মিক ইচ্ছা
- মাথাব্যথা: মাথায় বা কানের পাশে ব্যথা বা অস্বস্তি
- দুর্বলতা বা ক্লান্তি: অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত বোধ করা বা শক্তির অভাব।
কখন রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি?
রক্তে শর্করার মাত্রা যখন এমন পর্যায়ে নেমে আসে যা মস্তিষ্ক এবং শরীরের কার্যকারিতাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তখন তা একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য হয়। এই পর্যায়ে খিঁচুনি , অচেতনতা বা স্থায়ী ক্ষতির মতো জটিলতা প্রতিরোধের জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যেসব পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, সেগুলো হলো:
- গুরুতর লক্ষণ: জ্ঞান হারানো, খিঁচুনি, অথবা সাড়া দিতে বা যোগাযোগ করতে অক্ষমতা।
- পুনরাবৃত্ত ঘটনা: ঘন ঘন রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া, যা প্রচলিত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাতেও ভালো হয় না।
- মুখে চিনি গ্রহণ করতে অক্ষমতা: যদি কোনো ব্যক্তি তার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ানোর জন্য নিরাপদে খেতে বা পান করতে না পারেন।
- বিভ্রান্তি বা দিকভ্রান্তি: হঠাৎ করে চারপাশ চিনতে বা সাধারণ কাজ করতে অক্ষমতা।
- রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে যাওয়া: যখন গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত কমে যায় এবং উপসর্গগুলো তীব্রতর হয়
রক্তে শর্করার মাত্রার হঠাৎ ওঠানামার কারণ কী?
শরীরে গ্লুকোজ, ইনসুলিন এবং অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে রক্তে শর্করার মাত্রায় হঠাৎ ওঠানামা দেখা দেয়। এর কিছু সাধারণ কারণ হলো:
- অনিয়মিত খাবার বা খাবার বাদ দেওয়া: সময়মতো না খাওয়া বা খাবার বাদ দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, বেশি পরিমাণে খাবার খেলে, বিশেষ করে পরিশোধিত শর্করা বা চিনিযুক্ত খাবার বেশি হলে, গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। শরীর দ্রুত মানিয়ে নিতে হিমশিম খেতে পারে, যার ফলে সাময়িকভাবে মাত্রা বেড়ে বা কমে যেতে পারে।
- ঔষধ বা ইনসুলিনের ভারসাম্যহীনতা: যাঁরা ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর অন্য কোনো ঔষধ গ্রহণ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঔষধের মাত্রা খুব বেশি বা খুব কম হলে রক্তে শর্করার ওঠানামা হতে পারে। ঔষধের একটি ডোজ বাদ দিলে, ভুল সময়ে গ্রহণ করলে, বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ পরিবর্তন করলে রক্তে শর্করার মাত্রা অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে বা কমে যেতে পারে।
- শারীরিক কার্যকলাপের পরিবর্তন: ব্যায়াম শরীরে গ্লুকোজ ব্যবহারের পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে। তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক কার্যকলাপ হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যদি আগে থেকে খাবার বা জলখাবার সমন্বয় করা না হয়। অন্যদিকে, শারীরিক কার্যকলাপ কমে গেলে বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে।
- মানসিক চাপ বা অসুস্থতা: শারীরিক চাপ , যেমন সংক্রমণ, আঘাত বা অস্ত্রোপচার, এবং মানসিক চাপ, যেমন উদ্বেগ বা জীবনে ঘটে যাওয়া আকস্মিক কোনো ঘটনা, কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণকে উদ্দীপ্ত করে। এই হরমোনগুলো ডায়াবেটিস নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
- অ্যালকোহল সেবন: অ্যালকোহল পান করলে, বিশেষ করে খালি পেটে, তা লিভারের গ্লুকোজ নিঃসরণের ক্ষমতাকে ব্যাহত করতে পারে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যায়। নির্দিষ্ট কিছু ধরণের অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, বিশেষ করে চিনিযুক্ত ককটেল, পানের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে।
- হরমোনের পরিবর্তন: হরমোনের ওঠানামা, যেমন ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা বা থাইরয়েডের সমস্যার সময় ঘটে থাকে, তা শরীরে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে সাময়িকভাবে শর্করার মাত্রা বেড়ে বা কমে যেতে পারে।
প্রতিদিন রক্তে শর্করার মাত্রা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, সতর্ক পর্যবেক্ষণ এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শের সমন্বয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা প্রতিদিন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ হলো:
- সুষম খাবার: প্রতিটি খাবারে শর্করা, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির মিশ্রণ গ্রহণ করলে তা গ্লুকোজ শোষণকে ধীর করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে। শাকসবজি, শস্যদানা এবং ডালের মতো আঁশযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
- নিয়মিত খাবার সময়: নির্দিষ্ট সময়ে খাবার ও জলখাবার খেলে শরীর আরও দক্ষতার সাথে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। খাবারের মাঝে দীর্ঘ বিরতি এড়িয়ে চললে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া প্রতিরোধ করা যায়।
- শারীরিক কার্যকলাপ: নিয়মিত ব্যায়াম শরীরকে শক্তি উৎপাদনের জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করতে সাহায্য করে এবং ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা উন্নত করে। হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো মাঝারি ধরনের কার্যকলাপ রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে, তবে এর তীব্রতা এবং সময় সাবধানে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
- ঔষধ সেবনবিধি: নির্ধারিত ঔষধ বা ইনসুলিন ঠিক পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করলে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য হয়। ঔষধের মাত্রা বা সময়সূচীতে কোনো পরিবর্তন হলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে আলোচনা করা উচিত।
- রক্তে শর্করার পর্যবেক্ষণ: নিয়মিত নিজে থেকে পর্যবেক্ষণ অথবা অবিচ্ছিন্ন গ্লুকোজ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র (continuous glucose monitoring devices) ব্যবহার করলে রক্তে শর্করার মাত্রার ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং এর উচ্চ বা নিম্ন রিডিংয়ের কারণগুলো শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
- মানসিক চাপ ও ঘুমের ব্যবস্থাপনা: মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। শিথিলকরণ কৌশল অনুশীলন, একটি ঘুমের রুটিন বজায় রাখা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া রক্তে শর্করার মাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
- জলপান: পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে শরীর কার্যকরভাবে গ্লুকোজ প্রক্রিয়াজাত করতে পারে এবং পানিশূন্যতাজনিত কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।
- অতিরিক্ত মদ্যপান এবং ধূমপান পরিহার করুন: উভয়ই গ্লুকোজ বিপাককে প্রভাবিত করতে পারে এবং এর ওঠানামার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এই দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোর সাথে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাস্থ্যকর সীমার মধ্যে বজায় থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার ঝুঁকি কমে।
আজই পরামর্শ করুন
আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখা আপনার দৈনন্দিন অনুভূতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে, এবং আপনার স্বাস্থ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষেত্রে শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদি আপনি দেখেন যে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায়শই খুব বেড়ে যায় বা খুব কমে যায়, অথবা যদি আপনি নতুন বা দীর্ঘস্থায়ী কোনো উপসর্গ লক্ষ্য করেন, তাহলে ম্যাক্স হাসপাতালের একজন এন্ডোক্রিনোলজিস্টের সাথে কথা বলা ভালো, যিনি আপনাকে নিরাপদে এবং কার্যকরভাবে পথ দেখাতে পারবেন। দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে আপনি জটিলতা প্রতিরোধ করার সুযোগ পাবেন এবং প্রতিদিন নিজের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী বোধ করবেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
ডায়াবেটিস নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কি রক্তে শর্করার মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে?
হ্যাঁ, মানসিক চাপ, অসুস্থতা, হরমোনের পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসের মতো কারণগুলো ডায়াবেটিস নির্ণয় না হলেও যে কারও মধ্যে সাময়িক ওঠানামা ঘটাতে পারে।
আবহাওয়া বা ঋতু কীভাবে রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করে?
গরম বা ঠান্ডা আবহাওয়া শারীরিক কার্যকলাপ, ক্ষুধা এবং শরীরে জলের পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
নির্দিষ্ট কিছু সাপ্লিমেন্ট বা ভেষজ পণ্য কি রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে?
ক্রোমিয়াম, দারুচিনি বা মেথির মতো কিছু সম্পূরক গ্লুকোজের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয় এবং এ বিষয়ে একজন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে আলোচনা করা উচিত।
রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেলে বা কমে গেলে কত দ্রুত তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে?
এর সময় নির্ভর করে কারণ, আপনার শরীরের ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়া এবং খাদ্যাভ্যাস, পানীয় গ্রহণ বা ওষুধের সমন্বয়ের মতো যেকোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার ওপর।
রক্তে শর্করার গড় মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও, এর ঘন ঘন ওঠানামার কি কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আছে?
ঘন ঘন ওঠানামা শরীরের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং সময়ের সাথে সাথে জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে, এমনকি যদি সামগ্রিক গড় স্বাভাবিক বলে মনে হয়।
শুধুমাত্র পানিশূন্যতা কি রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে?
হ্যাঁ, ডিহাইড্রেশন রক্তের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, যার ফলে রক্তে গ্লুকোজ ঘনীভূত হতে পারে এবং রিডিং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আসতে পারে।
ঘুমের ধরণ কি রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করে?
অপর্যাপ্ত বা অনিয়মিত ঘুম গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় বা তা আরও অনির্দেশ্য হয়ে পড়ে।
Written and Verified by:
Related Blogs
Dr. R.S.Mishra In Internal Medicine
Nov 07 , 2020 | 1 min read
Dr. Vandana Boobna In Internal Medicine
Nov 08 , 2020 | 2 min read
Blogs by Doctor
Most read Blogs
Get a Call Back
Other Blogs
- নবজাতকের যত্ন
- আয়ুর্বেদের মাধ্যমে নিরাময়
- ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ
- আলগা গতিতে টিপস
- গাইনোকোমাস্টিয়ার লক্ষণ
- আপনার হার্ট সুস্থ রাখার 7 টি উপায়
- ক্যান্সার প্রতিরোধী খাবার
- পাইলস এবং ফিসার
- স্তনের চুলকানি মানেই কি ক্যান্সার?
- লিউকেমিয়া কি
- কিডনি প্রতিস্থাপনের জটিলতা
- অটিজম সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
Specialist in Location
- Best Internal Medicine Doctors in India
- Best Internal Medicine Doctors in Ghaziabad
- Best Internal Medicine Doctors in Shalimar Bagh
- Best Internal Medicine Doctors in Mohali
- Best Internal Medicine Doctors in Patparganj
- Best Internal Medicine Doctors in Saket
- Best Internal Medicine Doctors in Bathinda
- Best Internal Medicine Doctors in Panchsheel Park
- Best Internal Medicine Doctors in Dehradun
- Best Internal Medicine Doctors in Noida
- Best Internal Medicine Doctors in Lajpat Nagar
- Best Internal Medicine Doctors in Gurgaon
- Best Internal Medicine Doctors in Delhi
- Best Internal Medicine Doctors in Nagpur
- Best Internal Medicine Doctors in Lucknow
- Best Internal Medicine Doctors in Dwarka
- Best Internal Medicine Doctor in Pusa Road
- Best Internal Medicine Doctor in Vile Parle
- Best Internal Medicine Doctors in Sector 128 Noida
- Best Internal Medicine Doctors in Sector 19 Noida
- CAR T-Cell Therapy
- Chemotherapy
- LVAD
- Robotic Heart Surgery
- Kidney Transplant
- The Da Vinci Xi Robotic System
- Lung Transplant
- Bone Marrow Transplant (BMT)
- HIPEC
- Valvular Heart Surgery
- Coronary Artery Bypass Grafting (CABG)
- Knee Replacement Surgery
- ECMO
- Bariatric Surgery
- Biopsies / FNAC And Catheter Drainages
- Cochlear Implant
- More...