Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

স্ক্রিন টাইম ও শিশুদের চোখ: তাদের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার কিছু কার্যকরী পরামর্শ

By Dr. Raman Mehta in Ophthalmology , Eye Care / Ophthalmology

Apr 15 , 2026 | 4 min read

আজকের বিশ্বে, শ্রেণীকক্ষ ও বাড়ি থেকে শুরু করে গাড়িতে দীর্ঘ যাত্রাপথ পর্যন্ত সর্বত্রই স্ক্রিন রয়েছে। শিশুরা আগের চেয়ে অনেক বেশি ডিভাইসের মাধ্যমে শিখছে, খেলছে এবং যোগাযোগ স্থাপন করছে। এই ডিজিটাল পরিবর্তনের সুবিধা থাকলেও, এটি প্রায়শই উপেক্ষিত একটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগও বাড়িয়েছে: চোখের স্বাস্থ্য।

স্ক্রিন নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠায়, আরও বেশি সংখ্যক অভিভাবক তাদের সন্তানদের মধ্যে ডিজিটাল ক্লান্তির লক্ষণ লক্ষ্য করছেন। চোখ ছোট করে তাকানো, চোখ রগড়ানো বা দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এখন আর অস্বাভাবিক কিছু নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন টাইম এবং চোখের স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্কটি বাস্তব এবং ক্রমশ বাড়ছে। তাহলে, এই স্ক্রিন-ভরা পৃথিবীতে আমরা আমাদের সন্তানদের বিকাশমান দৃষ্টিশক্তিকে কীভাবে রক্ষা করব? চলুন, জেনে নেওয়া যাক।

ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ: স্ক্রিন টাইম এবং শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য

১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের চোখ বিকাশমান থাকে, যার ফলে তারা ডিজিটাল আই স্ট্রেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়। এই অবস্থাটি, যা প্রায়শই কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম নামে পরিচিত, এখন আর শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। স্ক্রিনের সামনে বেশি সময় কাটানোর ফলে শিশুদের মধ্যে চোখের চাপ একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা , মনোযোগের অভাব এবং এমনকি ঘুমের ব্যাঘাতের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর একটি কারণ হলো, শিশুরা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় কম পলক ফেলে। ট্যাবলেট বা স্মার্টফোনে কাছ থেকে করা কার্যকলাপও মনোযোগ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত চোখের পেশীগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণ চক্রে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং সময়ের সাথে সাথে রেটিনার স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে।

শিশুদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষার ৭টি বুদ্ধিদীপ্ত উপায়

ডিজিটাল বিশ্বে আপনার সন্তানকে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা এড়াতে সাহায্য করার জন্য এখানে সাতটি বাস্তবসম্মত ও গবেষণালব্ধ পরামর্শ দেওয়া হলো:

২০-২০-২০ নিয়মটি অনুসরণ করুন

আপনার সন্তানকে শেখান যেন সে প্রতি ২০ মিনিট পর পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে বিরতি নেয়। এই সহজ নিয়মটি চোখের পেশিকে শিথিল করে চোখের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে টাইমার সেট করুন।

প্রাকৃতিক আলো এবং বাইরের খেলাধুলাকে উৎসাহিত করুন

বাইরে সময় কাটানো চোখের সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিক আলোর সংস্পর্শ, বিশেষ করে সন্ধ্যার সময়, শিশুদের মধ্যে ক্ষীণদৃষ্টি (মায়োপিয়া) হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

স্ক্রিন সেটিংস এবং আলো সামঞ্জস্য করুন

সঠিক ব্রাইটনেস এবং কনট্রাস্ট সেটিংস অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। স্ক্রিনটি চারপাশের পরিবেশের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হওয়া উচিত নয়। জানালা বা মাথার উপরের আলোর ঝলকানি এড়িয়ে চলুন। আপনার সন্তান চশমা পরলে, তাতে অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ কোটিং ব্যবহার করুন।

সম্ভব হলে বড় স্ক্রিন ব্যবহার করুন

ট্যাবলেট এবং ফোন ছোট আকার এবং কাছ থেকে দেখার সুবিধার কারণে বেশি ক্ষতিকর। সম্ভব হলে, ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের মতো বড় স্ক্রিন ব্যবহার করুন, যা চোখের সমান উচ্চতায় এবং চোখ থেকে কমপক্ষে ১৮-২৪ ইঞ্চি দূরে রাখা হয়।

ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত করুন।

নীল আলো মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা ঘুমের উপর প্রভাব ফেলে। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন দেখা থেকে বিরত থাকুন। ছাপানো বই পড়া বা শান্তভাবে খেলার মতো আরামদায়ক কাজে উৎসাহিত করুন।

সময়সীমা এবং বিরতি নির্ধারণ করুন

অবাধ স্ক্রিন ব্যবহারের পরিবর্তে, এটিকে ছোট ছোট সময়ে ভাগ করে নিন। প্যারেন্টাল কন্ট্রোল বা স্ক্রিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এমন অ্যাপ ব্যবহার করুন। এটি শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলে এবং চোখের উপর ক্রমাগত চাপ কমায়।

নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার ব্যবস্থা করুন

আপনার সন্তানের দৃষ্টি সংক্রান্ত কোনো সমস্যা না থাকলেও, ৪ বছর বয়স থেকেই একজন শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়মিত যাওয়া জরুরি। ডিজিটাল আই স্ট্রেইন বা দৃষ্টি সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণগুলো প্রায়শই উপেক্ষা করা হয় অথবা মনোযোগের সমস্যা বলে ভুল করা হয়।

কতক্ষণ স্ক্রিন টাইম নিরাপদ?

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের দিনে এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম থাকা উচিত নয়, এবং এর চেয়ে কম হলে আরও ভালো। স্কুলগামী শিশুদের ক্ষেত্রে, স্ক্রিন টাইমের সাথে শারীরিক কার্যকলাপ, বাইরের খেলাধুলা এবং অফলাইন যোগাযোগের ভারসাম্য বজায় রাখুন। এর গুণমান গুরুত্বপূর্ণ—নিষ্ক্রিয় ব্যবহারের চেয়ে শিক্ষামূলক এবং ইন্টারেক্টিভ বিষয়বস্তু শ্রেয়। কিন্তু সঠিকভাবে পরিচালনা করা না গেলে, এমনকি “ভালো” স্ক্রিন টাইমও ঝুঁকি বহন করে।

পিতামাতা ও বিদ্যালয়ের ভূমিকা

একটি স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করতে অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণ অনুকরণ করতে ভালোবাসে, তাই আপনি নিজে স্ক্রিন থেকে বিরতি নিলে তা তাদেরও একই কাজ করতে উৎসাহিত করে।

স্কুলগুলোতে, বিশেষ করে অনলাইন শিক্ষার ক্ষেত্রে, শিক্ষকরা চোখের জন্য আরামদায়ক কিছু অভ্যাস অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, যেমন—নির্ধারিত বিরতি, শরীরচর্চা এবং এমন পাঠদান যাতে একটানা স্ক্রিনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। হাতে লেখা কাজে উৎসাহিত করাও চোখের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

উপসংহার

ডিজিটাল ডিভাইস এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। যদিও আমরা স্ক্রিন পুরোপুরি বাদ দিতে পারি না, তবে শিশুদের দৃষ্টিশক্তির ওপর স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব কমাতে আমরা কিছু বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ নিতে পারি। সচেতনতাই প্রথম পদক্ষেপ, এবং এরপর আসে পদক্ষেপ গ্রহণ।

আপনার সন্তানের যদি প্রায়ই চোখে অস্বস্তি, ঝাপসা দৃষ্টি বা মাথাব্যথা হয়, তবে দেরি করবেন না। একজন বিশেষজ্ঞের চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো গুরুতর সমস্যা আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় এবং সময়মতো চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হয়।

আজই আপনার সন্তানের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করুন, একজন শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং আজীবন স্থায়ী স্ক্রিন-সচেতন অভ্যাস গড়ে তুলুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সামঞ্জস্য করা কি শিশুদের ডিজিটাল চোখের চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে?

হ্যাঁ, ঘরের আলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্ক্রিনের সর্বোত্তম উজ্জ্বলতা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে চোখের উপর চাপ কমাতে ও ক্লান্তি দূর করতে পারে।

ট্যাবলেট বা স্মার্টফোনের তুলনায় ই-রিডার কি শিশুদের চোখের জন্য বেশি নিরাপদ?

ই-ইঙ্ক ডিসপ্লেযুক্ত ই-রিডারগুলো সাধারণত চোখের জন্য বেশি আরামদায়ক, কারণ এগুলোতে তীব্র নীল আলো থাকে না এবং স্ক্রিনগুলো ব্যাকলিট হয় না।

শিশুরা যদি নিয়মিত স্ক্রিন ব্যবহার করে, তাহলে কত তাড়াতাড়ি তাদের প্রথম চোখের পরীক্ষা করানো উচিত?

কোনো শিশু যদি ঘন ঘন স্ক্রিন ব্যবহার করে, তাহলে কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পেলেও তিন বছর বয়স থেকেই চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্ধকারে বাচ্চাদের স্ক্রিন দেখা কি ক্ষতিকর?

হ্যাঁ, অন্ধকার ঘরে স্ক্রিন ব্যবহার করলে চোখের উপর চাপ বাড়ে, কারণ স্ক্রিনের আলো এবং পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে বৈসাদৃশ্য অনেক বেশি থাকে।

চোখের ক্লান্তি কমাতে বাচ্চাদের বাড়িতে করার মতো কোনো প্রাকৃতিক চোখের ব্যায়াম আছে কি?

হ্যাঁ, চোখ ঘোরানো, দুই হাত ঘষে বন্ধ চোখের উপর রাখা, বা কাছের বস্তু থেকে দূরের বস্তুর দিকে দৃষ্টি সরানোর মতো কাজগুলো চোখের পেশী শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে।