Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

BRAIN ATTACK:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত ক্যান্সার: লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধ

By Dr Swati Mittal in Surgical Oncology , Cancer Care / Oncology , Gynecologic Oncology

Apr 15 , 2026

স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত ক্যান্সার (যাকে প্রায়শই 'গাইনি ক্যান্সার' বলা হয়) হলো এমন এক ধরনের ক্যান্সার যা মহিলাদের প্রজনন অঙ্গে শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে জরায়ুমুখ, ডিম্বাশয়, জরায়ু (গর্ভ), যোনি এবং ভালভা।

এই ক্যান্সারগুলো বিভিন্ন বয়সে দেখা যায়, যা ১০-২০ বছর বয়সের মতো কম বয়স থেকে শুরু হয়ে মেনোপজ-পরবর্তী বয়স পর্যন্ত বিস্তৃত।

এই ক্যান্সারগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় হলে বেঁচে থাকার হার বেশি থাকে। তাই, উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং হলো নিজেকে সুরক্ষিত রাখার সর্বোত্তম উপায়।

জরায়ুর ক্যান্সার

এটি জরায়ুর (গর্ভাশয়) আস্তরণের এক ধরনের ক্যান্সার। এর লক্ষণগুলো হলো মাসিকের নিয়মিততায় অস্বাভাবিকতা, যার মধ্যে প্রায়শই থাকে অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত, দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত, যোনি স্রাব, পেটে ব্যথা এবং মেনোপজের পরে রক্তপাত। স্থূলকায় নারী এবং যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস আছে, তাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। এই লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দিলে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে এই ক্যান্সারটি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব।

জরায়ুর ক্যান্সার

এই ক্যান্সারটি ভারতে খুবই সাধারণ এবং এটি হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) নামক একটি ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। যখন এই ভাইরাসের সংক্রমণ দীর্ঘ সময় ধরে জরায়ুমুখে থাকে, তখন এটি প্রি-ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে, যা পরবর্তীতে ক্যান্সারে পরিণত হয়। এর লক্ষণগুলো হলো যোনিপথ দিয়ে অতিরিক্ত স্রাব, সহবাসের পর বা মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত এবং পেটে ব্যথা

এটিই একমাত্র স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত ক্যান্সার যা এইচপিভি টিকা দ্বারা প্রতিরোধ করা যায়। অল্পবয়সী মেয়েদের টিকা দিলে এই ক্যান্সার প্রায় সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়াও, কোনো মহিলা যদি প্যাপ স্মিয়ার বা এইচপিভি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মিত স্ক্রিনিং করান, তাহলে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার

এটি ডিম্বাশয় থেকে সৃষ্ট এক ধরনের ক্যান্সার। এটি সাধারণত দেরিতে ধরা পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিকশিত হয়, কারণ এর লক্ষণগুলো সুনির্দিষ্ট নয় এবং এর মধ্যে রয়েছে পেট ফুলে যাওয়া, পেট ফাঁপা , বদহজম , অল্পতেই পেট ভরে যাওয়া, মূত্র সংক্রান্ত সমস্যা বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন। রোগীরা প্রায়শই এই লক্ষণগুলোকে পেটের সমস্যা বলে উড়িয়ে দেন, যার ফলে রোগটি আরও বেড়ে যায় এবং রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়। যাদের পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের মধ্যে এটি প্রায়শই দেখা যায়।

সুতরাং, যাঁদের পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের জন্য জেনেটিক কাউন্সেলিং জোরালোভাবে সুপারিশ করা হয় এবং এই ধরনের ব্যক্তিদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। এছাড়াও, কোনো মহিলার মধ্যে এই ধরনের অনির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে, তাঁর ডাক্তারের কাছে যাওয়া এবং আলট্রাসনোগ্রাফি করানো উচিত।

যোনিমুখের ক্যান্সার

এই ক্যান্সারটি মহিলাদের বাহ্যিক যৌনাঙ্গে হয়ে থাকে। সাধারণত সেখানে একটি পিণ্ড, চুলকানি, অথবা ত্বকের রঙ বা গঠনের পরিবর্তন দেখা যায়। এইচপিভি (HPV) সংক্রমণে আক্রান্ত মহিলাদের মধ্যেও এটি হতে পারে। সুতরাং, এই ধরনের যেকোনো উপসর্গের প্রাথমিক মূল্যায়ন এই ক্যান্সারের বিকাশ প্রতিরোধ করতে পারে।

যোনি ক্যান্সার

এটি একটি বিরল ক্যান্সার যা যোনিপথে হয়ে থাকে। এর লক্ষণগুলো হলো যোনি থেকে রক্তপাত, স্রাব, ব্যথা অথবা যোনিতে একটি পিণ্ড। জরায়ুমুখের ক্যান্সারের জন্য চিকিৎসা করানো নারীদের ক্ষেত্রেও এটি হতে পারে। নিয়মিত ফলো-আপ এবং পেলভিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব।

স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত ক্যান্সারের সাধারণ প্রতিরোধমূলক কৌশল

  • এইচপিভি টিকা: এটি মেয়ে ও ছেলে উভয়কেই জরায়ুমুখের ক্যান্সার এবং এইচপিভি-সম্পর্কিত অন্যান্য ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা দেয়।
  • নিয়মিত স্ক্রিনিং: প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের জন্য নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার বা এইচপিভি পরীক্ষা।
  • স্বাস্থ্যকর জীবনধারা: শাকসবজি ও শস্যদানা খান, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
  • তামাক ও অ্যালকোহল পরিহার করুন: এতে ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
  • অবিলম্বে মূল্যায়ন: অস্বাভাবিক রক্তপাত, ব্যথা বা স্রাব দেখা দিলে চিকিৎসা নিন।
  • জিনগত পরামর্শ: যেসব পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয়।

উপসংহার

মহিলাদের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত স্ক্রিনিং, অল্পবয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকা প্রদান এবং আগে থেকে যোনিপথে কোনো অস্বাভাবিক রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এর ফলে ক্যান্সার দ্রুত শনাক্ত করাও সম্ভব হয়।