Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

BRAIN ATTACK:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

মাসিক স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যের মাধ্যমে মাসিক সংক্রান্ত ভ্রান্ত ধারণা দূর করুন

By Dr. Manisha Arora in Obstetrics And Gynaecology , Robotic Surgery , Gynaecologic Laparoscopy

Apr 15 , 2026 | 2 min read

মাসিক একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা প্রত্যেক নারীই অনুভব করে, তবুও এটি নানা ভ্রান্ত ধারণা, সামাজিক নিষেধাজ্ঞা এবং ভুল তথ্যে ঘেরা। এই ভ্রান্ত ধারণাগুলো শুধু অপ্রয়োজনীয় ভয় ও লজ্জাই সৃষ্টি করে না, বরং অনেক নারী ও কিশোরীকে তাদের মাসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিকভাবে বুঝতে ও তার যত্ন নিতেও বাধা দেয়।

এখন সময় এসেছে নীরবতা ভেঙে তথ্যপ্রমাণের মাধ্যমে কিছু প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করার।

ভ্রান্ত ধারণা ১: মাসিক নোংরা বা অশুচি।

সত্য: মাসিকের রক্ত নোংরা নয়। এটি সেই একই রক্ত এবং টিস্যু যা মাসিক চক্র চলাকালীন জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ তৈরি করে। মাসিক একটি সুস্থ প্রজননতন্ত্রের লক্ষণ। মাসিককে “অপরিষ্কার” হিসেবে গণ্য করা কেবল সামাজিক কলঙ্ক বাড়ায় এবং নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করে।

ভ্রান্ত ধারণা ২: মাসিকের সময় মহিলাদের ব্যায়াম করা উচিত নয়

তথ্য: হাঁটা, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং-এর মতো হালকা শারীরিক কার্যকলাপ মাসিকের ব্যথা কমাতে, মেজাজ ভালো করতে এবং পেট ফাঁপা ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম কারও কারও জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, কিন্তু মাসিকের সময় সক্রিয় থাকা এড়িয়ে চলার কোনো ডাক্তারি কারণ নেই। প্রকৃতপক্ষে, ব্যায়াম প্রায়শই উপসর্গগুলোকে আরও সহনীয় করে তোলে।

ভ্রান্ত ধারণা ৩: মাসিকের সময় গোসল করা বা চুল ধোয়া ক্ষতিকর

তথ্য: মাসিকের সময় স্নান করা বা চুল ধোয়ায় কোনো ক্ষতি নেই। সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে এবং সতেজতা বজায় রাখতে মাসিকের সময় ভালো পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য। গরম জলে স্নান করলে পেটের ব্যথা ও কোমর ব্যথা কমাতে সাহায্য হয়।

ভ্রান্ত ধারণা ৪: মাসিকের সময় গর্ভধারণ করা যায় না

তথ্য: যদিও সম্ভাবনা কম, তবুও মাসিকের সময় অরক্ষিত যৌন মিলনের ফলে গর্ভবতী হওয়া সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনার মাসিক চক্র স্বল্পস্থায়ী হয়। শুক্রাণু শরীরের ভেতরে ৫ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে, তাই মাসিকের পরপরই ডিম্বস্ফোটন হলেও গর্ভধারণ হতে পারে।

ভ্রান্ত ধারণা ৫: মাসিকের ব্যথা স্বাভাবিক এবং এটিকে উপেক্ষা করা উচিত

তথ্য: হালকা পেটব্যথা সাধারণ ব্যাপার, কিন্তু তীব্র ব্যথা স্বাভাবিক নয়। অত্যন্ত বেদনাদায়ক মাসিক, অতিরিক্ত রক্তপাত, বা এমন মাসিক যা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তা এন্ডোমেট্রিওসিস বা ফাইব্রয়েডের মতো রোগের লক্ষণ হতে পারে। তীব্র ব্যথাকে উপেক্ষা না করে বা স্বাভাবিক বলে ধরে না নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ভ্রান্ত ধারণা ৬: ট্যাম্পন বা মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

তথ্য: ট্যাম্পন এবং মেনস্ট্রুয়াল কাপ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে নিরাপদ। এগুলো প্রজনন অঙ্গের কোনো ক্ষতি করে না বা বন্ধ্যাত্বের কারণ হয় না। একমাত্র ঝুঁকি হলো যদি এগুলো নিয়মিত পরিবর্তন বা পরিষ্কার করা না হয়, যা থেকে সংক্রমণ হতে পারে। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে, এগুলো মাসিকের যত্নের জন্য কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প।

ভ্রান্ত ধারণা ৭: মাসিকের সময় মেয়েদের স্কুলে বা কর্মক্ষেত্রে যাওয়া উচিত নয়

সত্যি কথা হলো, ঋতুস্রাবের কারণে কারও পড়াশোনা, কাজ বা দৈনন্দিন কার্যকলাপ থেমে যাওয়া উচিত নয়। সামাজিক কলঙ্ক এবং সঠিক মাসিক সামগ্রীর অপ্রাপ্যতাই মেয়েদের পিছিয়ে রাখে, তাদের ঋতুস্রাব নয়। সঠিক যত্নের মাধ্যমে নারীরা কোনো বাধা ছাড়াই তাদের সমস্ত স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারেন।

ভ্রান্ত ধারণা ৮: টক খাবার বা নির্দিষ্ট কিছু পানীয় খেলে মাসিকের উপর প্রভাব পড়তে পারে

তথ্য: টক খাবার, দই খাওয়া বা ঠান্ডা জল পান করলে যে মাসিকের উপর প্রভাব পড়ে, তার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাদ্যতালিকা বজায় রাখা। আয়রন, ফাইবার ও জলীয় উপাদানে সমৃদ্ধ খাবার মাসিকের উপসর্গগুলো কমাতে সাহায্য করতে পারে।

কলঙ্ক ভাঙা

মাসিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করাই হলো প্রচলিত ভুল ধারণা ভাঙার প্রথম ধাপ। মাসিক স্বাস্থ্য সার্বিক সুস্থতার একটি অপরিহার্য অংশ, এটি লজ্জায় ফিসফিস করে বলার মতো কোনো বিষয় নয়।

  • ছোটবেলা থেকেই মেয়েদেরকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে ইতিবাচক ও বৈজ্ঞানিকভাবে শিক্ষা দিন।
  • বাড়িতে, বিদ্যালয়ে এবং কর্মক্ষেত্রে খোলামেলা আলোচনাকে উৎসাহিত করুন।
  • সকল নারীর জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ মাসিক পণ্যের সহজলভ্যতাকে সমর্থন করুন।

শেষ কথা

মাসিক একটি স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর বিষয় এবং এতে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। প্রচলিত ভুল ধারণা ও প্রকৃত তথ্য যাচাই করার মাধ্যমে আমরা নারী ও কিশোরীদের মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসের সাথে তাদের মাসিক সামলাতে সাহায্য করতে পারি।

আসুন, কলঙ্ককে জ্ঞান দিয়ে, নীরবতাকে আলোচনা দিয়ে এবং কল্পকথাকে তথ্য দিয়ে প্রতিস্থাপন করি, কারণ ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যই মানব স্বাস্থ্য।