Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

BRAIN ATTACK:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

গর্ভাবস্থায় জ্বর: কারণ, লক্ষণ ও যত্ন

By Dr. Seema Wadhwa in Infertility & IVF , Obstetrics And Gynaecology , Robotic Surgery , Gynaecologic Laparoscopy

Apr 15 , 2026

গর্ভাবস্থায় আপনার শরীরের প্রতিটি পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা বেড়ে যায়। এমনকি সামান্য জ্বরও উদ্বেগের কারণ হতে পারে, কারণ এটি শুধু আপনার আরামকেই নয়, আপনার শিশুর সুস্থতাকেও প্রভাবিত করে। যদিও জ্বর একটি সাধারণ উপসর্গ যা প্রায়শই সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার সংকেত দেয়, গর্ভাবস্থায় এর প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

জ্বরের কারণ কী, কখন চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে এবং কীভাবে নিরাপদে এর মোকাবিলা করতে হয়, তা বোঝা আপনার নিজের স্বাস্থ্য ও শিশুর বিকাশ উভয়ের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য।

জ্বর কী এবং গর্ভাবস্থায় এটি উদ্বেগের কারণ কেন?

জ্বর হলো শরীরের তাপমাত্রার একটি অস্থায়ী বৃদ্ধি, যা সাধারণত কোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে আপনার শরীরের লড়াইয়ের একটি লক্ষণ। গর্ভাবস্থায়, ১০০.৪° ফারেনহাইট (৩৮° সেলসিয়াস) বা তার বেশি তাপমাত্রাকে সাধারণত জ্বর হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও হালকা বা স্বল্পস্থায়ী জ্বর প্রায়শই ক্ষতিকর নয়, তবে উচ্চ বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, বিশেষ করে প্রথম ত্রৈমাসিকে, কখনও কখনও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এ বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উচ্চ জ্বর কেন গুরুত্বপূর্ণ

গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে একটানা উচ্চ জ্বর ভ্রূণের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর কারণ হলো, প্রথম ত্রৈমাসিকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠিত হতে থাকে এবং শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা এই সংবেদনশীল প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও এটি উদ্বেগজনক মনে হতে পারে, বেশিরভাগ জ্বরই হালকা ও স্বল্পস্থায়ী হয় এবং দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আরও পড়ুন: গর্ভধারণের পরিকল্পনা- আপনার যা জানা প্রয়োজন

গর্ভাবস্থায় জ্বরের সাধারণ কারণসমূহ

গর্ভাবস্থায় জ্বর সাধারণত কোনো অন্তর্নিহিত সংক্রমণের লক্ষণ। যেহেতু শিশুর বৃদ্ধিকে সহায়তা করার জন্য রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই কম সক্রিয় হয়ে পড়ে, তাই গর্ভবতী মায়েরা নিম্নলিখিত অসুস্থতাগুলোর প্রতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েন:

  • সাধারণ সর্দি বা ফ্লু
  • মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই)
  • স্ট্রেপ থ্রোট এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ
  • কিডনি সংক্রমণ
  • কোভিড-১৯ সহ ভাইরাল সংক্রমণ

গর্ভাবস্থায় জ্বর নিয়ন্ত্রণের নিরাপদ উপায়

গর্ভাবস্থায় জ্বর নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদে আপনার তাপমাত্রা কমানো এবং এর অন্তর্নিহিত কারণের সমাধান করা। ব্যক্তিগত যত্নের জন্য সর্বদা আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন, তবে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলো আপনাকে বাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে এবং আরোগ্য লাভে সহায়তা করতে পারে:

শরীরকে আর্দ্র রাখুন

জ্বরের কারণে দ্রুত ডিহাইড্রেশন হতে পারে, যা আপনার এবং আপনার শিশুর উভয়ের উপরই প্রভাব ফেলতে পারে। শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া তরলের ঘাটতি পূরণ করতে এবং শরীরের আরোগ্য প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে প্রচুর পরিমাণে পানি, পাতলা স্যুপ এবং তাজা ফলের রস পান করুন।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন

সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আপনার শরীরের শক্তির প্রয়োজন। যতটা সম্ভব বিশ্রাম নিন, অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন এবং নিজেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য সময় দিন।

নিরাপদ ঔষধ ব্যবহার করুন

গর্ভাবস্থায় জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল (অ্যাসিটামিনোফেন) সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয়, তবে এর মাত্রা এবং উপযুক্ততা সম্পর্কে সর্বদা আপনার ডাক্তারের সাথে নিশ্চিত হয়ে নিন। বিশেষভাবে নির্দেশিত না হলে আইবুপ্রোফেন এবং অ্যাসপিরিন পরিহার করুন, কারণ গর্ভাবস্থায় এগুলি সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয় না।

স্বাভাবিকভাবে শীতল হন

অস্বস্তি কমাতে কপালে বা কব্জিতে একটি ঠান্ডা, ভেজা কাপড় ব্যবহার করুন, অথবা হালকা গরম জলে স্নান করুন। ঠান্ডা জলে স্নান বা বরফ প্যাক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলি কাঁপুনি সৃষ্টি করতে পারে এবং আপনার শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

আরও পড়ুন: বারবার গর্ভপাতের কারণ কী

কখন আপনার ডাক্তারকে ফোন করবেন

যদিও হালকা জ্বর প্রায়শই বাড়িতেই সামলানো যায়, তবুও এমন কিছু পরিস্থিতি আসে যখন অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। আপনার প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্য এবং আপনার শিশুর সুস্থতাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

  • ১০২° ফারেনহাইট (৩৮.৯° সেলসিয়াস) বা তার বেশি জ্বর: উচ্চ এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
  • ২৪-৪৮ ঘণ্টার বেশি জ্বর থাকলে: যদি ঘরোয়া চিকিৎসায় আপনার জ্বর না কমে, অথবা যদি জ্বর বারবার ফিরে আসে, তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
  • জ্বরের সাথে অন্যান্য উপসর্গ:
    • প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া: এটি মূত্রনালীর সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
    • পেটে তীব্র ব্যথা, মাথাব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া: এগুলো আরও গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
    • শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা তীব্র কাশি: এগুলো শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
    • ভ্রূণের নড়াচড়া কমে যাওয়া: এটি সবসময়ই আপনার ডাক্তারকে ফোন করার একটি কারণ, কারণ এটি আপনার শিশুর সুস্থ গর্ভাবস্থায় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সক্রিয় থাকা

জ্বর একটি উদ্বেগজনক অভিজ্ঞতা হতে পারে, কিন্তু আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। আপনার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা জানা এবং বাড়িতে একটি থার্মোমিটার রাখা আপনার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করতে পারে। গর্ভাবস্থায়, আপনার পরিচর্যা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফ্লু-এর টিকা নেওয়া এবং সমস্ত প্রস্তাবিত টিকা সময়মতো গ্রহণ করা নিশ্চিত করুন। জ্বর নিয়ে চিন্তিত হলে, আপনার ডাক্তারকে ফোন করতে দ্বিধা করবেন না, কারণ ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ এবং আশ্বাসের জন্য তিনিই আপনার সেরা উৎস।

উপসংহার

গর্ভাবস্থায় জ্বর হওয়াটা উদ্বেগজনক হতে পারে, কিন্তু শান্ত ও সচেতন মন নিয়ে এর মোকাবিলা করা জরুরি। বেশিরভাগ জ্বরই স্বল্পস্থায়ী হয় এবং ডাক্তারের পরামর্শে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান ও নিরাপদ ওষুধের মাধ্যমে তা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থেকে এবং কখন আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে ফোন করতে হবে তা জেনে, আপনি নিজের এবং আপনার শিশুর সর্বোত্তম যত্ন নিচ্ছেন। নিজের সহজাত প্রবৃত্তির উপর বিশ্বাস রাখুন, আপনার শরীরের কথা শুনুন এবং মনে রাখবেন যে এই অবিশ্বাস্য গর্ভাবস্থার যাত্রায় আপনি এক অসাধারণ কাজ করছেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

জ্বর কি প্রসবের লক্ষণ?

না, জ্বর সাধারণত প্রসবের লক্ষণ নয়। যদি আপনার প্রসবের নির্ধারিত তারিখ কাছাকাছি চলে আসে এবং আপনার জ্বর থাকে, তবে এটি সম্ভবত কোনো সংক্রমণের লক্ষণ এবং এ বিষয়ে আপনার ডাক্তারকে জানানো উচিত।

২. জ্বর কমাতে আমি কি আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন ব্যবহার করতে পারি?

না, ডাক্তারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া গর্ভাবস্থায় আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন গ্রহণ করার পরামর্শ সাধারণত দেওয়া হয় না। অ্যাসিটামিনোফেনই একমাত্র জ্বর কমানোর ঔষধ যা সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।

৩. আমার কত ঘন ঘন শরীরের তাপমাত্রা মাপা উচিত?

আপনার প্রতি কয়েক ঘণ্টা পর পর শরীরের তাপমাত্রা মাপা উচিত, বিশেষ করে যদি আপনার শরীর গরম লাগে বা অসুস্থ বোধ করেন। এটি আপনাকে জ্বরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে এবং আপনার ডাক্তারকে সঠিকভাবে জানাতে সাহায্য করে।

৪. গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে জ্বরের কারণে কি গর্ভপাত হতে পারে?

উচ্চ এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বর গর্ভাবস্থায় জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু বেশিরভাগ স্বল্পস্থায়ী জ্বরের কারণে গর্ভপাত হয় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত জ্বরের চিকিৎসা করা।

৫. গর্ভাবস্থায় শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?

গর্ভাবস্থায় আপনার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কিছুটা বেশি হতে পারে, তবে তা সাধারণ সীমার মধ্যেই থাকে। ১০০.৪° ফারেনহাইট (৩৮° সেলসিয়াস) বা তার বেশি তাপমাত্রাকে জ্বর বলে গণ্য করা হয়।

৬. জ্বর কি আমার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে?

দীর্ঘস্থায়ী ও উচ্চ জ্বর, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে, সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে, এই ঝুঁকি সামান্য, এবং যেকোনো সমস্যা এড়ানোর সর্বোত্তম উপায় হলো চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দ্রুত জ্বরের চিকিৎসা করা।

৭. গর্ভাবস্থায় ফ্লু-এর টিকা নেওয়া কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, এটি খুবই নিরাপদ এবং সাধারণত সকল গর্ভবতী মহিলাদের ফ্লু-এর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফ্লু এবং এর সাথে সম্পর্কিত গর্ভাবস্থার জটিলতা প্রতিরোধের এটিই সর্বোত্তম উপায়।