Delhi/NCR:

Mohali:

Dehradun:

Bathinda:

Mumbai:

Nagpur:

Lucknow:

Bhubaneswar:

To Book an Appointment

Call Us+91 926 888 0303

This is an auto-translated page and may have translation errors. Click here to read the original version in English.

মাইগ্রেনের কারণ: সাধারণ দৈনন্দিন কার্যকলাপ যা মাইগ্রেনের আক্রমণ ঘটাতে পারে

By Dr. K. M. Hassan in Neurosciences , Interventional Neurology , Neurology

Apr 15 , 2026 | 4 min read

মাইগ্রেন শুধু সাধারণ মাথাব্যথা নয়। এটি আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং এমনকি আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা দিনের পর দিন বিছানায় আটকে রাখতে পারে। যদিও কিছু মানুষ স্পষ্টভাবে জানেন কী কারণে তাদের মাইগ্রেন শুরু হয়, অন্যরা হয়তো বুঝতেও পারেন না যে তাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপও এই সমস্যার কারণ হতে পারে।

আপনার মাইগ্রেনের কারণগুলো বোঝা ভবিষ্যতে এর আক্রমণ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। আপনার খাওয়া খাবার থেকে শুরু করে পান করা জলের পরিমাণ পর্যন্ত, ছোট ছোট দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো আপনার কত ঘন ঘন মাইগ্রেন হবে তাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

চাপ

মাথাব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মানসিক চাপকে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ করে মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্র, সম্পর্ক বা অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনার কারণেই হোক না কেন, মানসিক চাপ হরমোনের পরিবর্তন এবং পেশিতে টান সৃষ্টি করতে পারে, যা মাইগ্রেনের কারণ হিসেবে পরিচিত।

পরামর্শ: গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, যোগব্যায়াম করা বা বাইরে হাঁটতে যাওয়ার মতো আরামদায়ক পদ্ধতিগুলো চেষ্টা করুন। প্রতিদিন মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করলে মাইগ্রেনের আক্রমণের ঝুঁকি কমে যেতে পারে।

ঘুমের অভাব বা ঘুমের অনিয়মিত ধরণ

খুব কম বা খুব বেশি ঘুম আপনার শরীরের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করতে পারে এবং এর ফলে মাইগ্রেন হতে পারে। আপনার ঘুমের সময়সূচীতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন, যেমন দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া বা সপ্তাহান্তে বেশি ঘুমানো, এগুলোও এর কারণ হতে পারে।

পরামর্শ: সপ্তাহান্তসহ প্রতিদিন একটি নিয়মিত ঘুমের রুটিন মেনে চলুন। প্রতি রাতে অন্তত ৭-৯ ঘণ্টা ভালো ঘুম দিন।

পানিশূন্যতা

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করা একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী কারণ। পানিশূন্যতার কারণে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ এবং অক্সিজেনের যোগান কমে যায়, যা মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে।

পরামর্শ: সারাদিন প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। সঙ্গে একটি জলের বোতল রাখুন এবং প্রয়োজনে রিমাইন্ডার সেট করুন।

খাবার বাদ দেওয়া

খাবারের মাঝে খুব বেশি দেরি করলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে, যা মাইগ্রেনের একটি সাধারণ কারণ। উপবাস বা ডায়েটিংয়ের ফলেও কিছু মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

পরামর্শ: নিয়মিত অল্প অল্প করে সুষম খাবার খান। খাবারের মাঝে দীর্ঘ বিরতি পরিহার করুন এবং বাইরে থাকাকালীন স্বাস্থ্যকর জলখাবার সাথে রাখুন।

নির্দিষ্ট খাদ্য ও পানীয়

পুরোনো চিজ, চকোলেট, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং এমএসজি বা কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত খাবারের মতো খাবারগুলো প্রতিদিনের মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে। অ্যালকোহল, বিশেষ করে রেড ওয়াইন, অনেকের জন্য আরেকটি পরিচিত কারণ।

পরামর্শ: কোন কোন খাবার খেলে মাইগ্রেন হয়, তা লিখে রাখতে একটি ফুড ডায়েরি রাখুন। সময়ের সাথে সাথে সেই খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন বা পরিমাণে কমিয়ে দিন।

ক্যাফেইনের অতিরিক্ত মাত্রা বা প্রত্যাহার

ক্যাফেইন বেশ জটিল একটি বিষয় হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে ক্যাফেইন মাইগ্রেনের উপশম ঘটাতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে বা হঠাৎ করে ক্যাফেইন খাওয়া বন্ধ করে দিলেও মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হতে পারে।

পরামর্শ: আপনি যদি ক্যাফেইন পান করেন, তবে প্রতিদিন তা পরিমিত ও স্থিতিশীল পরিমাণে রাখার চেষ্টা করুন। হঠাৎ করে তা বন্ধ করা পরিহার করা উচিত।

স্ক্রিন টাইম এবং চোখের চাপ

বিরতিহীনভাবে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে থাকলে চোখের উপর চাপ, শরীরের ভঙ্গিমায় সমস্যা এবং টেনশন হেডেক হতে পারে, যা থেকে মাইগ্রেনের সূত্রপাত হতে পারে।

পরামর্শ: ২০-২০-২০ নিয়মটি ব্যবহার করুন: প্রতি ২০ মিনিট পর পর, ২০ সেকেন্ডের জন্য বিরতি নিয়ে ২০ ফুট দূরে থাকা কোনো বস্তুর দিকে মনোযোগ দিন। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ঠিক করুন এবং নিয়মিত বিরতি নিন।

উজ্জ্বল আলো এবং উচ্চ শব্দ

কিছু মানুষ তীব্র সংবেদী উদ্দীপনার প্রতি সংবেদনশীল হন, যেমন ঝলকানি আলো বা উচ্চ শব্দ। এই উদ্দীপকগুলো বিশেষত জনবহুল এলাকায় বা বিশেষ অনুষ্ঠান চলাকালীন বেশি দেখা যায়।

পরামর্শ: উজ্জ্বল পরিবেশে সানগ্লাস পরুন, ঝলকানিযুক্ত আলো এড়িয়ে চলুন এবং কোলাহলপূর্ণ জায়গায় থাকলে নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন ব্যবহার করুন।

আবহাওয়ার পরিবর্তন

তাপমাত্রা, আর্দ্রতা বা বায়ুমণ্ডলীয় চাপের ওঠানামা শরীরের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে। এটি এমন একটি বিষয় যা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু আপনি এর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।

পরামর্শ: আবহাওয়ার চরম পরিবর্তনের সময়, সম্ভব হলে, বাড়ির ভেতরে থাকুন এবং শরীরকে আর্দ্র ও শীতল রাখুন। ঋতু পরিবর্তনের সময় মাইগ্রেনের ওষুধ হাতের কাছে রাখুন।

তীব্র গন্ধ

পারফিউম, পরিষ্কারক দ্রব্য, ধোঁয়া, বা এমনকি তীব্র গন্ধযুক্ত কিছু খাবারও মাইগ্রেন-প্রবণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করতে পারে।

পরামর্শ: তীব্র সুগন্ধযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলুন এবং সুগন্ধহীন বিকল্প বেছে নিন। আপনার সংবেদনশীলতা থাকলে, অপ্রীতিকর গন্ধ ছেঁকে ফেলার জন্য একটি মাস্ক সাথে রাখার কথা ভাবতে পারেন।

উপসংহার

মাইগ্রেন বিরক্তিকর এবং এর ব্যবস্থাপনা কঠিন হতে পারে, কিন্তু মাইগ্রেনের এই দৈনন্দিন কারণগুলো শনাক্ত করে তা এড়িয়ে চলা উন্নত স্বাস্থ্যের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। প্রত্যেক ব্যক্তির শরীর ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া করে, তাই যা একজনের মাইগ্রেনের কারণ হয়, তা অন্যজনের ক্ষেত্রে নাও হতে পারে।

আপনার দৈনন্দিন কার্যকলাপ এবং পারিপার্শ্বিকতার প্রতি মনোযোগ দিয়ে, আপনি মাইগ্রেনের প্রকোপ ও তীব্রতা কমাতে পারেন। সচেতনতা, জীবনযাত্রায় ছোটখাটো পরিবর্তন এবং সামান্য পরিকল্পনার মাধ্যমে, আপনি আপনার মাইগ্রেনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জীবনের মান উন্নত করতে পারেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কি মাইগ্রেন হতে পারে?

হ্যাঁ, হরমোনের ওঠানামা, বিশেষ করে মহিলাদের ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময়, মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে। আপনার মাসিক চক্রের হিসাব রাখলে তা আপনাকে হরমোন-সম্পর্কিত আক্রমণ অনুমান করতে এবং তা সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

মাইগ্রেন কি সবসময় ব্যথা দিয়ে শুরু হয়?

না, কিছু মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে ব্যথা শুরু হওয়ার আগে কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা যায়, যেমন দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, বমি বমি ভাব বা অরা। এমনকি কিছু লোকের 'নীরব মাইগ্রেন' হয়, যেখানে একেবারেই কোনো মাথাব্যথা থাকে না।

অ্যালার্জির কারণে কি মাইগ্রেন হতে পারে?

অ্যালার্জির কারণে সাইনাসে প্রদাহ ও চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে। ঋতুভিত্তিক অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করলে মাইগ্রেনের ঝুঁকি কমতে পারে।

মাইগ্রেন হলে আমার কি ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলা উচিত?

এমনটা জরুরি নয়। যদিও তীব্র ব্যায়াম মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে, নিয়মিত ও পরিমিত ব্যায়াম তা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ধীরে ধীরে শরীর গরম করুন এবং ব্যায়ামের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।

ভুল অঙ্গভঙ্গির কারণে কি মাইগ্রেন হতে পারে?

হ্যাঁ, দীর্ঘ সময় ধরে ভুল ভঙ্গিতে বসা বা দাঁড়ানো, বিশেষ করে ডিভাইস ব্যবহার করার সময়, ঘাড় ও কাঁধে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে টেনশন হেডেক বা মাইগ্রেন হতে পারে।

Related Blogs

Blogs by Doctor